সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

বিশ্বে জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি অর্জনে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে। এ মন্তব্য অর্থমন্ত্রীর। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে এ বিষয়ে দ্বিমতের অবকাশ নেই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশের সমপর্যায়ে নিজের অবস্থান দৃঢ় করছে। সেখানে উন্নয়নশীল পর্যায়ে জাতিসংঘ কর্তৃক অনুমোদন দেশের এক সম্মানজনক প্রাপ্তি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর স্বর্ণদ্বারে উপনীত হওয়ার মাহেন্দ্রক্ষণে এমন স্বীকৃতি বাংলাদেশের ইতিহাসেও এক সম্ভাবনাময় দিকনির্দেশনা। বৃহত্তর এশিয়ার চীন, ভারত, মালয়েশিয়ার কাতারে দাঁড়ানো বাংলাদেশ যে স্বনির্ভর অঞ্চল গড়ার দৃপ্ত প্রয়াসে প্রতিনিয়ত এগিয়ে এ কথা বললে অত্যুক্তি হবে না। এমন অসাধারণ অর্জন সহজলভ্যও ছিল না। টেকসই উন্নয়নে দেশ গড়ার দৃপ্ত অঙ্গীকারে বর্তমান সরকার যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার মহাপরিকল্পনায় সম্পৃক্ত হয়েছে তারই প্রত্যাশিত প্রাপ্তি এই নতুন স্বীকৃতি। স্বাধীনতার মাসকে বরণ করার প্রাক্কালে আর এক গৌরবোজ্জ্বল অভিষেক সত্যিই দেশের অনন্য প্রবহমান দীপ্তি। এমন আলোকিত বলয়ের যাত্রা শুরু আরও আগ থেকেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়ন দশকের নিরন্তর বহুল কর্মযোগ আমাদের দেশটিকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় চলমান রাখতে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করেন। গত তিন বছর ধরে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক প্রতিবেদনে সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৪৯টি দেশের মধ্যে ৪৮তম। আর দক্ষিণ এশিয়ায় একেবারে শীর্ষে। এই প্রতিবেদন প্রমাণ করে নারীর ক্ষমতায়ন ও বহুবিধ কর্মযোগে বাংলাদেশ জোরকদমে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন মূল্যায়ন একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জরুরী। কারণ অর্ধাংশ নারী জাতি যদি উন্নয়নের অভিগামিতায় নিজেদের যুক্ত করতে পেছনে পড়ে থাকে তাহলে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি নজরে আসে না। সঙ্গত কারণে বাংলাদেশ এমন সমৃদ্ধ মাইলফলকের পথে অনেক আগে থেকেই। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে বহুবিধ কর্মযোগ এবং ক্ষমতায়নে নারীর দৃশ্যমান সমৃদ্ধি দৃষ্টিগোচর হয় না। অর্ধাংশ নারীসহ পুরো জনগোষ্ঠীকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে মাত্রায় সারাবিশ্বে নিজের অবস্থানকে মজবুত করেছেন পাশাপাশি দেশকেও তুলে ধরেছেন অনন্য উচ্চতায়। জাতিসংঘ কিংবা বিশ্ব প্রতিবেদন নয়, এক নজরে সারা বাংলাদেশকে প্রত্যক্ষ করলে এমন অসাধারণ সত্য আর তথ্যও সবার নজরে আসতে সময় লাগে না।

মানুষের পাঁচটি মৌলিক ও নাগরিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের যে অনবদ্য কর্মসফলতা সেটাই দেশকে বিশেষ মর্যাদায় বিশ্বসভায় নিয়ে গেছে। খাদ্যে এখন আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমাদের ঐতিহ্যিক বস্ত্রশিল্প এবং আধুনিক পোশাক শিল্পখাত আন্তর্জাতিক বলয়ে কতখানি জায়গা দখল করে আছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। স্বাস্থ্য ও গৃহায়ন কর্মসূচীতে বাংলাদেশের অর্জন কোন অংশে কম নয়। আর জাতির মেরুদন্ড শিক্ষা ব্যবস্থাপনা তার প্রাসঙ্গিক কর্মসূচীতে এগিয়ে থাকলেও ১ বছরের করোনার কারণে সবচেয়ে দুঃসহ অবস্থায় পৌঁছে লেখাপড়ার এই সমৃদ্ধ বলয়টি। আর অবকাঠামোগত উন্নয়ন অনুধাবন করতে গেলে একবার সারা বাংলাদেশ ঘুরে আসা খুবই দরকার। রাজধানীর সঙ্গে বাংলাদেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলোর নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগে যে সড়ক-মহাসড়ক নির্মাণ তাও এক অনন্য সুন্দর ভ্রমণ আনন্দ বলাই যেতে পারে। আর নিজ অর্থায়নে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান করা বর্তমান সরকারের এক অভাবনীয় কর্মসাধনা। মেট্রোরেল যোগাযোগেও বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে তার লক্ষ্যমাত্রা স্পর্শ করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত। অচিরেই তা জনগণের কল্যাণে সম্পৃক্ত করা হবে। উন্নয়ন দশকের অগ্রগামিতাকে পার করে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার যুগপূর্তির মহাসন্ধিক্ষণের যাত্রাপথের অংশীদার, যা পুরো দেশকে আন্তর্জাতিক বলয়ে অনন্য মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে। সুতরাং বাংলাদেশ আধুনিকতার বিস্তীর্ণ বলয়ে তথ্যপ্রযুক্তির মহাসম্মিলনে যে নতুন বাংলাদেশ উপহার দেয়ার পথে সেখানে সার্বিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততাও সরকারের দৃপ্ত অঙ্গীকার। সাধারণ জনগোষ্ঠীকে এক সুতায় গেঁথে অনন্যসাধারণ বাংলাদেশ বিনির্মাণ জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় জয়যাত্রা, যা প্রধানমন্ত্রী সব সময় জনগণের নামে ও কল্যাণে উৎসর্গ করতে অকুণ্ঠিত। বাংলাদেশ তার অপার সম্ভাবনা নিয়ে পরবর্তী মাইলফলকেও এগিয়ে যাবে তেমন প্রত্যাশা সব মানুষের।