১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতু ধসে যাওয়ায় তদন্ত কমিটি

সুনামগঞ্জ  প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে কুন্দানালা খালের উপর প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য সেতুর গার্ডার ধসের ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (২ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) মো. জাকির হোসেনকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মালেক তদন্ত কমিটির গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সরেজমিন তদন্ত করে কমিটি আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে এই বিষয়ে রিপোর্ট দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

এর আগে গত সোমবার (১ মার্চ) দুপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডিজাইন সেকশনের তিন সদস্যের তদন্ত দলের প্রধান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শিশির কুমার রাউত, তদন্ত টিমের সদস্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান কাউচার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আগামী ছয় দিনের মধ্যে এ কমিটি রিপোর্ট জমা দেবার কথা রয়েছে।

সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ডাবর পয়েন্ট থেকে জগন্নাথপুর-আউশকান্দি হয়ে রাজধানীর দূরত্ব কমানোর জন্য সড়কের প্রশস্ত করণের কাজ হচ্ছে গত কয়েক বছর ধরে। গত ছয় মাসে এ সড়কে সাতটি নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। রবিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ১০ কিলোমিটারের মাথায় কুন্দানালা খালের উপর নির্মিতব্য সেতুর পাঁচটি গার্ডার ধসে যায়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ তাৎক্ষণিক দাবি করেন, কাজে কোন অনিয়ম হয় নি। ১৬০ টন ওজনের গার্ডার বসানোর সময় হাইড্রোলিক পাইপ ফেটে যাওয়ায় ওজন নিতে পারে নি, একটার ওপর আরেকটা পড়ে সব কয়টি ভেঙে গেছে।

কিন্তু স্থানীয় লোকজন দাবি করেছেন, এই সড়কে নির্মিতব্য সাতটি সেতু নির্মাণে অনিয়ম হচ্ছে। এ কারণে এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা এই সেতুগুলোর নির্মাণ কাজ সঠিক হচ্ছে কী-না, ডিজাইন ঠিক হয়েছে কী-না এসব বিষয় বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানান।

সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভেঙে পড়া গার্ডারগুলো অপসারণের কাজ শুরু হবে। ওখানে নতুন করে গার্ডার নির্মাণ কাজও দ্রুত শুরু করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মালেক বলেন, ‘সেতুর গার্ডার ভেঙে পড়ার ঘটনা পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে রিপোর্ট দেবার জন্য বলা হয়েছে। এ জন্য অতিরিক্ত সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।