মায়ের কোল ফিরে পেলো, বিক্রি হওয়া ২২ দিনের শিশুটি

নাটোর প্রতিনিধি : অবশেষে মায়ের কোলে ফিরলো দত্তকের নামে বিক্রি হয়ে যাওয়া বড়াইগ্রামের ২২ দিনের শিশু চাঁদনী। বুধবার (৩ মার্চ) বিকেলে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শিশুটিকে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, শিশুটির জন্য শিশুখাদ্য কিনে দেওয়ার পাশাপাশি তার বাবা-মায়ের থাকার জায়গা, নগদ টাকা, নতুন ভ্যান ও ভিজিডি কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছে প্রশাসন।

বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহাঙ্গীর আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন বুধবার দুপুরে শিশুটিকে দত্তক নেওয়া পরিবার থেকে নিয়ে আসে। এরপর জেলা প্রশাসক শাহরিয়াজ শিশুটিকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন। এসময় শিশু ও তার মায়ের জন্য খাদ্য ছাড়াও পরিবারের প্রয়োজনীয় খাদ্য,নগদ ১০ হাজার টাকা ও ৪০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ভ্যান দেওয়া হয় পরিবারকে। এছাড়া ওই পরিবারের জন্য বসবাসের সুবিধার্থে জমিসহ ঘর করে দেওয়া এবং শিশুর বাবার ঋণ পরিশোধে উপজেলা প্রশাসনকে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। এর বাইরে ওই পরিবারে একটি ভিজিডি কার্ড করে দিতে ইউপি চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি জেনে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুল কুদ্দুস ওই পরিবারকে কিছু নগদ টাকা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের কয়েন গ্রামে একটি নবজাতক জন্মের পরপরই তাকে দত্তক দেওয়া নিয়ে একান-ওকান হয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, সুদে টাকা নিয়ে সেই টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় দত্তকের নাম করে শিশুকে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে তার বাবা-মা। বিষয়টি জানার পর প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ বড়াইগ্রাম থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম শিশুকে দত্তক দেয়ার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের দাবি, বেশ কিছুদিন আগে একই এলাকার সুদ কারবাবি কালাম, আব্দুস সামাদ ও সামাদের ভাই সানোয়ারের কাছ থেকে কিছু টাকা ধার নিয়েছিলেন ভ্যানচালক রেজাউল করিম। দিনে দিনে বেশ কিছু টাকা পরিশোধ করলেও সুদ কারবারিরা তার কাছে আরও ৮০ হাজার টাকা দাবি করে। তা দিতে না পারায় সম্প্রতি রেজাউলের চালানো ভ্যানটি নিয়ে যায় কালাম। এরপরও তারা টাকার জন্য চাপ দিতে থাকে রেজাউলকে। এক পর্যায়ে ওই সুদের কারবারিদের এক আত্মীয় পাবনা জেলার ঈশ্বরদী থানার সরাইকান্দি কারিগরপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলাম এক শিশু দত্তক নিতে চায় ও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাদের কাছে শিশু দেওয়ার বিনিময়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা লেনদেনের কথা হয় রফিকুলের। এরপর ওই সুদ কারবারিরা এসে রেজাউলকে সন্তান বিক্রির মাধ্যমে ঋণ মুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়। রেজাউল এতে বাধ্য হয়ে তার স্ত্রী ফুলজান বেগমকে সন্তান দিতে চাপ দেয়। কিন্তু, স্ত্রী সন্তান বেচতে অস্বীকৃতি জানালে রেজাউল ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘরের বেড়া কাটার পাশাপাশি নিজকে শেষ করে দিতে নিজের পায়েও আঘাত করে রক্তাক্ত হয়। বাধ্য হয়ে শিশু চাঁদনীকে স্বামীর কাছে দিলে সে তার সন্তানকে সুদের কারবারি সামাদের হাতে তুলে দেয়। তার মাধ্যমে শিশুটি পাবনার রফিকুল পেয়ে টাকার লেনদেন করে। সুদের কারবারিরা বেশিরভাগ টাকা নিয়ে  ২৮ হাজার টাকায় রেজাউলকে একটি ভ্যান কিনে দেয়। এরপরই পুরো বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।