আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত দিনাজপুর

হাকিমপুর (দিনাজপুর)প্রতিনিধি : দিনাজপুর নবাবগঞ্জে মুকুলে মুকুলে ছেয়ে গেছে আম গাছ। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত পুরো এলাকা। আমের ভালো ফলনের আশায় গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পারছেন আম চাষিরা। এদিকে, আমের ভালো ফলন পেতে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি অফিস।

শষ্যভান্ডার খ্যাত দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় লাভজনক হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে আমের চাষাবাদ। আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরেই এই অঞ্চলের আমের অবস্থান। এখানে হিমসাগর, হাড়িভাঙা, আম্রপালি, লেংড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম চাষা হয়। এখানকার আমের স্বাদ ভালো ও মিষ্টি হওয়ায় বিদেশেও রফতানি হয়।

আমবাগানে কর্মরত শ্রমিক শেরেগুল ইসলাম ও ইসরাইল হোসেন বলেন, বাগানের সবগাছে মুকুল আসছে। সে কারণে এইসময়ে গাছে পোকার আক্রমণ না করতে পারে, মুকুল যেন ভালো থাকে সেজন্য কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। এতে করে মুকুলে পোকামাকড় আক্রমণ করতে পারবে না মুকুলগুলোও ভালো থাকবে ও ভালো ফলন আসবে। এছাড়া গাছের গোড়ায় গর্ত করে সেখানে সার দেওয়া হচ্ছে যাতে গাছে পরিপূর্ণ মুকুল আসে ও ভালো ফল ধরে।

নবাবগঞ্জের রাওফার্ম ফ্রেস নামের আমচাষি সেলিম হোসেন বলেন, ‘আমি সাড়ে ১২ একর জায়গা নিয়ে আমের বাগান করেছি। তাতে হাড়িভাঙা, আম্র্রপালি ও বারি ফোর জাতের সাড়ে ৪ হাজারের অধিক আম গাছ রয়েছে। এবারে গাছে যথেষ্ট পরিমাণ আমের মুকুল এসেছে, মুকুল যেন ঝড়ে না পরে সে কারণে মুকুল রক্ষায় গাছের পরিচর্যাকরা বিভিন্ন ধরনের সুষম খাবারসহ সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেক গাছেই পর্যাপ্ত পরিমাণে মুকুল এসেছে, কিছু গাছে আসতিছে শীত শেষ হয়ে যাওয়ায় আগামী অল্পদিনের মধ্যে পুরোপুরি মুকুল চলে আসবে। রাওফার্ম ফ্রেশ বিগত তিনবছর ধরে এই বাগানের উৎপাদিত সব আম অনলাইনের মাধ্যমে বাজারজাত করে আসছে।’

আরকে আম চাষি রবিউল ইসলাম বলেন, ‘গতবছরে করোনার সময়েও আমের বেশ ভালো দাম পেয়েছি। যার কারণে আমরা লাভবান হয়েছিলাম। এবারে গতবারের তুলনায় সবার আম বাগানের গাছগুলোতে আমের মুকুল অনেক ভালো এসেছে। গাছে মুকুল যেন ঠিকমতো আসতে পারে ও ঝড়ে না পরে সেজন্য সার, কিটনাশক ও সেচ দেওয়া হচ্ছে। তাতে করে আমরা আশা করছি এবারে আমের ভালো ফলন হবে ও বাজার যদি ঠিক থাকে। আম যদি বিদেশে রফতানি হয় ও ভারত থেকে দেশে যদি আম আমদানি না হয় তাহলে আমরা ভালো লাভবান হতে পারবো।’

নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলায় আমের জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে এখানে বেশ ভালো আম চাষ হয়। চলতি বছর এই উপজেলায় ৮০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষাবাদ হচ্ছে। যা থেকে ২৪ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। ইতোমধ্যেই আমের মুকুল আসছে, এইসময়ে সাধারণত হুপার পোকার আক্রমণ করে। যার কারণে আমের মুকুল নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া বিচিং পদ্ধতিতে সেচ না দেওয়ার কারণে  মুকুল শুকিয়ে ঝড়ে পড়ে। এগুলো থেকে রক্ষা পেতে ও ফলন ভালো পেতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আমচাষিদের সবধরনের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। আমচাষিরাও সে মোতাবেক গাছের পরিচর্যায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন এতে এবারে আমের ভালো ফলনের আশা করছি।