স্বাগত স্বাধীনতার মাস

বিশ্বের প্রতিটি দেশ ও জাতির জীবনে স্বাধীনতার দিনটি চির অম্লান ও সুগভীর তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতির জীবনেও রয়েছে এর অপরিসীম গুরুত্ব। তবে এবারের স্বাধীনতার মাসটি অন্যান্যবারের চেয়ে ব্যতিক্রমী, তাৎপর্যে সুগভীর ও দ্যোতনাময়। কেননা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবার পা দিয়েছে পঞ্চাশ বছরে। ২০২১ সালে সাড়ম্বরে পালিত হবে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এর পাশাপাশি গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে সারাদেশে এবং একই সঙ্গে ইউনেস্কোর সহযোগিতায় বিশ্বব্যাপী পালিত হয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, যার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে ২০২১-এর ১৭ মার্চ পর্যন্ত। সত্যি বলতে কি, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী একই সূত্রে গাঁথা এক অমলিন চিরস্মরণীয় উপাখ্যান, যা প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশ ও বাঙালী জাতিকে মাথা উঁচু করে স্থাপন করেছে বিশ্ব মানচিত্রে, স্বমহিমায়, লাল-সবুজ পতাকায়। ইতোপূর্বে হাইকোর্ট ঐতিহাসিক ৭ মার্চকে জাতীয় ঐতিহাসিক দিবস হিসেবে গেজেট আকারে ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছে সরকারকে, যা মার্চের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়েছে বহুলাংশে বাঙালীর স্বাধীনতার মাস মার্চ। আমাদের কাছে এই রক্তঝরা মার্চ মাসের রয়েছে এক অন্যরকম আবেদন। এটি অগ্নিঝরা ইতিহাসের মাস, বিষাদ ও বেদনার মাস। এই মাসের ২৫ তারিখ থেকে লেখা শুরু হয়েছিল এক অমর মহাকাব্য- যার নাম বাংলাদেশ। বাঙালীর জীবনে ভাষা আন্দোলনের স্মারক মাস ফেব্রুয়ারির পর মার্চের গুরুত্ব সমধিক। স্বাধীনতার জন্য চূড়ান্ত লড়াই শুরু হয় এই মার্চেই। একাত্তরের গোটা মার্চ মাসই ছিল অত্যন্ত ঘটনাবহুল। ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশ যে স্বাধীনতা আন্দোলনের পথে এগোচ্ছিল তা সুস্পষ্ট হয়ে যায় এই মার্চেই। ১৯৭১-এর ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। সেই ভাষণেই বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ এই বজ্রনিনাদ ঘোষণার পরই এ দেশের মানুষের বুঝতে বাকি থাকে না যে, স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে আর দেরি নেই। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণেই বঙ্গবন্ধু যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেন। শত্রুর মোকাবেলা করার নির্দেশও ঘোষিত হয় তাঁর বজ্রকণ্ঠে। এই ভাষণ আজ বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্গত। সেই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে গর্জে ওঠে গোটা জাতি। শুরু হয় রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রাম। অসীম ত্যাগ, অসংখ্য মা-বোনের সম্ভ্রম এবং ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান বাঙালীকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র দিয়েছে। প্রতিরোধ যুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাঙালী তার সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামে বিজয়ী হয়। চির অম্লান সেইসব দিন। আমরা আজকের দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সেই বীর শহীদদের যাঁরা স্বাধীনতা যুদ্ধে তাঁদের মূল্যবান জীবন দান করে প্রতিরোধ সংগ্রামে প্রেরণা যুগিয়েছিলেন। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাদীনতার রক্তিম সূর্য্য- লাল-সবুজ পতাকা।