করোনায় হিলি ইমিগ্রেশন দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ, রাজস্ব ঘাটতি ৫ কোটি

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : করোনা মহামারির কারণে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী পারাপার বন্ধ রয়েছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন ভারতে চিকিৎসা নিয়ে আসা ও নিতে যাওয়া রোগী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকায় হিলি স্থল শুল্কস্টেশন পাঁচ কোটি টাকার মতো ভ্রমণ কর আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হিলি চেকপোস্ট দিয়ে গড়ে প্রতি মাসে চিকিৎসা, ব্যবসা, ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মানুষ ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে পারাপার হতো। তবে করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গত ২৩ মার্চ লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এতে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে সব ধরনের যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দেয় ভারত। ২৬ মার্চ থেকে বাংলাদেশেও লকডাউন ঘোষণা হয়। পরে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানিও বন্ধ হয়ে যায়।

অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ৮ জুন থেকে বন্দর দিয়ে দু’দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট চালু থাকলেও ভারতে সাধারণ যাত্রীদের যাওয়া-আসা নেই।

বগুড়া থেকে হিলিতে ওষুধ নিতে আসা জাকির হোসেন বলেন, আমার স্ত্রীর হার্টের সমস্যা। এ কারণে ওকে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে দেবি শেঠির কাছে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে এসেছি, কিন্তু নিয়মিত ভারতের ওষুধ খেতে হয়। ইতোমধ্যে যে ওষুধ নিয়ে এসেছিলাম, তা শেষ হয়ে গেছে। পরবর্তীতে ভারতে যাওয়ার জন্য ভিসা করলেও করোনার কারণে যেতে পারছি না। আমরা খুব বিপাকের মধ্যে পড়েছি, আর মাত্র দু’দিনের ওষুধ আছে। তাই ওষুধ পাওয়া নিয়ে খুব চিন্তায় আছি। অন্তত এক মাসের ওষুধ পেলে ভালো হতো। তিনি এমন সমস্যায় যারা আছেন তাদের কথা বিবেচনা করে যাত্রী পারাপার দ্রুত শুরুর দাবি জানান।

সান্তাহার থেকে আসা ইদ্রিস আলী বলেন, আমার নিজের চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়েছিলাম সেখানে চিকিৎসা করে এসেছি। কিন্তু আমাদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, যা ভারতীয় ওষুধ। কিন্তু করোনার কারণে এখনও যেতে পারছি না তাই বাধ্য হয়ে হিলি সীমান্তে এসেছি বিজিবি বা বিএসএফের হাত-পা ধরে যদি কোনোভাবে ওষুধ আনাতে পারি।

ভারতে চিকিৎসা নিতে যাওয়া আমেনা বেগম বলেন, সম্প্রতি আমার মার ক্যান্সার ধরা পড়েছে। তার চিকিৎসার জন্য তাকে ভারতে নিয়ে যেতে চাই। কিন্তু করোনার কারণে নিতে পারছি না। এনিয়ে খুব দুশিন্তায় রয়েছি।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাত্রী আসা-যাওয়া বন্ধ রয়েছে। এতে করে আমরা ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। আগে পাসপোর্টের মাধ্যমে ভারতে গিয়ে পণ্য দেখে তা কিনে দেশে আমদানি করতাম। কিন্তু এখন তা হচ্ছে না। এখন মোবাইলফোনের মাধ্যমে বা অন্য সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে কথা বলে পণ্য রফতানি করতে হচ্ছে। এতে করে পণ্যের মান নিয়ে চরম বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছি। বিশেষ করে বর্তমানে চাল আমদানির ক্ষেত্রে বেশি সমস্যা হচ্ছে। খারাপ চাল রফতানির কারণে আমাদেরকে লোকশান গুনতে হচ্ছে।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের উপ-কমিশনার সাইদুল আলম বলেন, করোনার আগে হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার যাত্রী দু’দেশের মধ্যে আগমন ও বর্হিগমন করতো। এর বিপরীতে প্রতি মাসে আমাদের ভ্রমণ কর বাবদ ৪০ লাখ টাকার মতো আয় হতো। কিন্তু করোনার কারণে গত প্রায় এক বছরের মতো সময় ধরে এই পথ দিয়ে যাত্রী আগমন ও বর্হিগমন দুটোই বন্ধ রয়েছে। এ কারণে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মতো ভ্রমণ কর আদায় থেকে বঞ্চিত হয়েছি। যেহেতু সরকারের যোগ্য নেতৃত্বের কারণে আমাদের করোনা ভ্যাকসিন প্রদান শুরু হয়েছে ও করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই ভালো, আশা করছি দ্রুত এই পথ দিয়ে যাত্রী পারাপার শুরু হবে ও ভ্রমণকর আদায় বৃদ্ধি পাবে।