চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের দেনা ৮ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা

অর্থনীতি রিপোর্ট : রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন (বিএসএফআইসি)-এর বর্তমানে দায় ও দেনার পরিমাণ ৮ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক ঋণ সাত হাজার ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ডিএসএল ও পাকিস্তানি ঋণ ৯৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির গত ৫ বছরে লোকসান তিন হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অষ্টম বৈঠকে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

কমিটি চিনিশিল্পে লোকসানের মূল কারণ উদঘাটন, অপ্রয়োজনীয় জনবল ছাঁটাই করে বন্ধ চিনিকলগুলো চালুকরণের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি আমির হোসেন আমু। শিল্প মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, এ, কে এম ফজলুল হক, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন, মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান, কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ এবং মো. শফিউল ইসলাম বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, বর্তমানে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনে শূন্য পদ রয়েছে ছয় হাজার ৩১টি। জনবল কাঠামোয় মোট পদ সংখ্যা ১৭ হাজার ২৬৩টি। বৈঠকে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বর্তমানে দায় দেনার পরিমাণসহ চিনিশিল্পে লোকসানের আটটি মূল কারণ চিহ্নিত করা হয়। সেখানে বিসিআইসির অধীনস্থ ইউরিয়া সার কারখানাসমূহের ডিলারদের কাছ থেকে সংগৃহিত নিরাপত্তা জামানত হিসেবে পাওয়া একশত এগারো কোটি ৮৫ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা কোন কোন ব্যাংকে রাখা হয়েছে, তার বিবরণ চাওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের দায়-দেনার মধ্যে রয়েছে, ব্যাংক ঋণ সাত হাজার ১৯৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা, ডিএসএল ও পাকিস্তানি ঋণ ৯৬৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা, আখের দাম ৩৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা, বেতন বাকি ৯২ কোটি ৩ লাখ টাকা, প্রভিডেন্ট ফান্ড খাতে ১০৭ কোটি ৭০ লাখ টাকা, গ্র্যাইচুইটি ২৫৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা, সরকরাহকারীদের পাওনা ১৩৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা, আয়কর বাবদ ১১ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ভ্যাট ৯ কোটি টাকা, ডিলার জামানত ৩৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।

গংসদেও গণসংযোগ বিভাগ জানায়, কমিটি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল অধিদপ্তরের কেনাকাটায় মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণের পাশাপাশি সকল কারখানায় ইউরোপ, আমেরিকা ও জাপান থেকে যন্ত্রপাতি ক্রয়ের সুপারিশ করে। একইসঙ্গে ওইসব কোম্পানির অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ (স্পেয়ার পার্স) ক্রয় করার জন্য সুপারিশ করে কমিটি।

বৈঠকে আয়োডিনযুক্ত লবণ বিল, ২০২১, চিনি শিল্পের সার্বিক বিষয় এবং বিসিআইসির অধীনস্থ ইউরিয়া সার কারখানাসমূহের ডিলারদের নিকট থেকে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে প্রাপ্ত অর্থ ১১১,৮৫,৮০,০০০/= (একশত এগারো কোটি পঁচাশি লক্ষ আশি হাজার) টাকা কোন কোন ব্যাংকে রাখা হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে “আয়োডিনযুক্ত লবণ বিল, ২০২১” সম্পর্কে পর্যালোচনা শেষে গৃহীত কতিপয় সংযোজন, সংশোধন ও পরিমার্জনের পর সংশোধিত আকারে সংসদে বিলটির রিপোর্ট প্রদানের সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের যুগ্ম সচিব, বিভিন্ন সংস্থা প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।