পাহাড় কাটার দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে ৫০ কোটি টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় রেলওয়ে প্রকল্পের জন্য মাটি সরবরাহে অনুমোদনের অতিরিক্ত পাহাড় কাটার দায়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা কনস্ট্রাকশন, মেসার্স হাসান ইন্টারন্যাশনাল এবং রেলওয়ের প্রকল্প পরিচালক মো. মফিজুর রহমানকে ৫০ কোটি টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের কাজ করতে গিয়ে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার রাঙ্গাপাহাড় এলাকায় ২ কোটি ২২ লাখ ঘনফুট পাহাড় কাটা হয়। বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) নগরীর পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের কার্যালয়ে শুনানি শেষে ওই তিন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানটিকে এই জরিমানা করা হয়।

শুনানিতে তমা গ্রুপের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সহকারী মহাব্যবস্থাপক হাতেম আলী মজুমদার ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাকারিয়া এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষে চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক সেলিনা আক্তার ও সহকারী পরিচালক শ্রীরূপ মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৬ অক্টোবর পরিদর্শনে গিয়ে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের জন্য চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে লোহাগাড়া উপজেলার রাঙ্গাপাহাড় এলাকায় অনুমোদন ছাড়া এসব পাহাড় কাটার প্রমাণ পায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক মোহাম্মদ মোয়াজ্জম হোসাইন জানান, রেললাইন প্রকল্পের জন্য লোহাগাড়া উপজেলার রাঙ্গাপাহাড় এলাকা থেকে তমা কনস্ট্রাকশন এবং হাসান ইন্টারন্যাশনাল ২ কোটি ২২ লাখ ঘনফুট পাহাড় কেটেছে। যেহেতু রেলের প্রকল্প, তারাও পাহাড় কাটার কোনো দেখভাল করেনি সেজন্য রেলওয়েসহ দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এই ৫০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সরকারি প্রকল্পের কাজের কারণে তাদের ৩৭টি পাহাড় কাটার অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এর বাইরে গিয়ে আরো ১৬টি পাহাড় কেটেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তমা গ্রুপ দাবি করেছে, তারা অনুমোদনের বাইরে কোনো পাহাড় কাটেনি। পরিবেশ অধিদপ্তরের এই আদেশের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবে।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পে তমা গ্রুপ এন্ড কন্সট্রাকশন লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক বিমল সাহা বলেন, প্রকল্পের জন্য আমাদের ৩৭টি পাহাড় কাটার অনুমতি আছে। আমরা অনুমোদনের বাইরে কোনো পাহাড় কাটিনি। এর বাইরে কে কোথায় পাহাড় কেটেছে, তা আমাদের জানা নেই। তারা কী প্রক্রিয়ায় জরিমানা করেছে, জানি না। আমরা আপিল করব।

মেসার্স হাসান ইন্টারন্যাশনালকে তারা মাটি কাটার কাজ দিয়েছেন কি না- জানতে চাইলে বিমল সাহা বলেন, দিয়েছি। তারা কাজ করছে। কিন্তু তারাও অনুমোদনের বাইরে পাহাড় কেটেছে এমনটা আমাদের জানা নেই।

প্রসঙ্গত, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তমা গ্রুপ অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। প্রকল্পে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার, রামু থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার এবং রামু থেকে ঘুমধুম পর্যন্ত ২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে।