অলৌকিক আগুনের নেপথ্যে মাজার : সিআইডি

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের লাল মিয়া ও শহিদুল ইসলামের বাড়িতে কয়েকদিন ধরে লাগা ‘অলৌকিক’ আগুনের রহস্য উন্মোচন হয়েছে।

পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, এক নারী করিবাজের পরামর্শে মাজার বানিয়ে মানুষকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে কয়েক দফায় আগুন জ্বালিয়ে তা পরে নিভিয়ে ফেলা হয়। মানুষের মধ্যে ভ্রান্তবিশ্বাস তৈরি করা যার লক্ষ্য।

গত ২১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত লাল মিয়া ও শহিদুলের বাড়ির ঘরের চালে, বিছানায়, শোকেসে, ধানের মাচায় ও খড়ে ক্ষণে ক্ষণে আগুন লাগার খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে শত শত মানুষ ওই দুটি বাড়ি ঘিরে ভিড় করে। খবর পেয়ে ২৬ ডিসেম্বর সকালে ময়মসিংহ থেকে ঘটনাস্থলে আসে সিআইডি ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন। পরে পুলিশ সেখান থেকে পাঁচজনকে আটকের পর থেকে থেমে গেছে অলৌকিক সেই আগুন।

পূর্বধলা সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক মো. আবুল কালাম খান পাঠান বলেন, ধাতব সোডিয়াম, পটাশিয়াম বা ফসফরাস- মৌলগুলো খোলা জায়গায় রাখলে এবং তা বাতাস বা অক্সিজেনের সংস্পর্শ পেলে আগুন জ্বলবে। এ ছাড়া অলৌকিক আগুন জ্বলার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এই দুটি বাড়ির আগুন ভিন্ন প্রক্রিয়ায় জ্বালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি পুলিশ। সেখান থেকে আটক দুইজনের কাছে আগুন জ্বালানোর ম্যাচ (গ্যাসের ম্যাচ) উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির লাল মিয়ার মেয়ে লাকি আক্তার (১২), ছেলে মাসুদ (১৯), পাশের বাড়ির আছমত বেপারীর ছেলে আজাদ মিয়া (২৯), আগুন দেখতে আসা পাশের কোচখালী গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী খোদেজা খাতুন (৫০) ও একই গ্রামের রুস্তম আলীর স্ত্রী জহুরা খাতুনকে (৪০) আটক করে। জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত ও তদন্তের বিষয়ে কথা বলেন।

আটককৃত আজাদ মিয়া, লাকি আক্তার ও জহুরা খাতুন ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘বিশেষ স্বার্থ হাসিল অর্থাৎ একটি মাজার স্থাপনের উদ্দেশ্যে তারা ক্ষণে ক্ষণে আগুন লাগায়।’

সিআইডির কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সিআইডির সদস্যদের উপস্থিতিতে হঠাৎ বাড়ির লাল মিয়ার ঘর থেকে আগুন আগুন বলে চিৎকার শুরু হয়। তাৎক্ষণিক আমরা দৌড়ে গিয়ে দেখি ঘরে শোকেসের ওপর কিছু বইয়ে আগুন জ্বলছে। এ সময় ওই ঘরে থাকা লাকি আক্তার ও আজাদ মিয়াকে আটক করার পর তাদের কাছে দুটি গ্যাস ম্যাচ পাওয়া যায়।’

সিআইডির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘জহুরা খাতুন ও এলাকার এক কবিরাজের প্রলোভনে পড়ে তারা দফায় দফায় অগ্নিকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং তাৎক্ষণিক নিভিয়েছে।’

ঘাগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোখলেছুর রহমান হাসান বলেন, ‘ওই বাড়িতে এক নারী কবিরাজ আছে। আমরা শুনেছি, তিনি মাজার করার প্রয়াসে মানুষের আস্থা অর্জনে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছিলেন।’