সাকিব-তামিমদের অনুপস্থিতিতে আগামীর তারকা হবেন কারা?

মিরর স্পোর্টস : তাদের ক্রিকেটের সূর্য এখনো অস্ত যায়নি। আগের মতো না হলে প্রায় সবাই এখনো আলো ছড়িয়ে যাচ্ছেন। নৈপুণ্যের দ্যুতিতে মাঠ মাতান। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেন। এক কথায় দেশের ক্রিকেটের পাঁচ শীর্ষ তারকা তথা ‘পঞ্চ পান্ডব’ এখনো মাঠে উজ্জ্বল।

কয়েক দিন আগে হওয়া প্রেসিডেন্টস কাপ (৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট) আর বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি আসরেও মিলেছে তার প্রমাণ। সেখানে মধ্য ত্রিশ পার হওয়া মাশরাফি ঠিকই বল হাতে আগুন ঝরিয়েছেন।

৩৩/৩৪-এ পা রাখা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মুশফিকুর রহীম ও তামিম ইকবাল ঠিকই ভাল খেলেছেন। রানও পেয়েছেন। এক বছর নিষিদ্ধ থাকার পর মাঠে নেমে সাকিব আল হাসান ছন্দ ফিরে না পেলেও জানান দিয়েছেন, ‘একটু ঘষা-মাজা হলেই আবার নিজেকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব।’

মোটকথা, বাংলাদেশের ক্রিকেট আকাশে এখনো ধ্রুব তারা হয়েই জ্বলছেন মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

কিন্তু কঠিন সত্য আর নির্মম বাস্তবতা হলো দেশের ক্রিকেটের ওই পাঁচ বড় তারার বয়স বাড়ছে। তারা সবাই ক্যারিয়ারের স্বর্ণালি সেরা সময়কে পিছনে ফেলে এসেছেন। সামনে যত দিন আসবে , তাদের নৈপুন্যে ততই অনুজ্জ্বল হতে থাকবে। ব্যাট ও বল হাতে কর্তৃত্তও কমবে।

খুব স্বাভাবিকভাবেই জাগে প্রশ্ন, ‘পঞ্চ পান্ডব’ অধ্যায় শেষ হয়ে গেলে টিম বাংলাদেশ কি তারকাশূন্য হয়ে পড়বে? মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও রিয়াদের বিকল্প কী আর আসবে না? আসলেও তারা কী আগামীতে বাংলাদেশের ক্রিকেটে আলো ছড়াতে পারবেন? টিম বাংলাদেশের ‘নিউক্লিয়াস’ হবার মত কেউ কী আছেন বর্তমানে, থাকলে তারা কারা?

সদ্য শেষ হওয়া বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি আসর অবশ্য আশার ঝিলিক দিয়ে গেছে। সেখানে ব্যাট ও বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন কিছু সম্ভাবনাময়ী তরুণ। রান তোলা ও উইকেট শিকারে অভিজ্ঞ, পরিণত ও প্রতিষ্ঠিত তারকাদের সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে ওপরে জায়গা করে নিয়েছেন এক ঝাঁক উদীয়মান তারকা।

মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, জহুরুল হক অমিদের সাথে রান তোলায় শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, ইয়াসির আলী রাব্বি, সৌম্য সরকার, নাইম শেখ ও পারভেজ হোসেন ইমন।

একইভাবে উইকেট শিকারে কাটার মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন এবং কামরুল ইসলাম রাব্বির সাথে সমানতালে পাল্লা দিয়ে বারুদ ছড়িয়েছেন মুক্তার আলী, শরিফুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ ও সুমন খানরা।

রান তোলা ও উইকেট শিকারে সেরা দশে জায়গা না পেলেও আফিফ হোসেন ধ্রুব, মেহেদি হাসান এভং বাঁ-হাতি স্পিনার রাকিবুলও নৈপুণ্যের দ্যুতিতে আলো ছড়িয়েছেন। প্রথমবার বড় আসরে অধিনায়কত্ব করতে নেমে মেধা ও প্রজ্ঞার ছাপ রেখেছেন মোহাম্মদ মিঠুনও।

অনেকেরই মত এই সব উদ্যমী আর মেধাবী তরুণরাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যত। তারাই একেকজন আগামীর মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও রিয়াদ।

ওপরে যাদের নাম বলা হলো তাদের কে কে আগামীর বড় তারকা হবেন? তার উত্তর দেবে সময়। এদের মধ্যে কিংবা এর বাইরে আর কারো বড় ক্রিকেটার হবার সম্ভাবনা আছে কি না?

দর্শক, সমর্থক, ভক্ত ও অনুরাগীদের সে কৌতুহলি প্রশ্নের জবাবে দেশের ক্রিকেটের নামী কোচ, সাকিব-মুশফিক ও তামিমদের মেন্টর মোহাম্মদ সালাউদ্দীন মনে করেন আগামী দিনের এক নম্বর তারকা হবেন লিটন দাস।

অনেক ক্রিকেটারের গুরু সালাউদ্দীনের চোখে ব্যাটসম্যান লিটন দাস এ মুহূর্তে দেশের সেরা ব্যাটিং প্রতিভা। তিনি মনে করেন, দেশ ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভাল খেলার এবং তারকা হবার সব গুণাবলিই লিটনের মাঝে বিদ্যমান।

ব্যাটসম্যান লিটন দাসকে আগামী দিনের সেরা ব্যাটসম্যান হিসেবে অভিহিত করে সালাউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের দেশে প্রতিভার কমতি নেই। এখনো বেশ কিছু ট্যালেন্টেড ক্রিকেটার আছে। যারা সত্যিকার পরিচর্য্যা পেলে অনেক বড় হতে পারে। যাদের মাঝে আছে অমিত সম্ভাবনা। তবে তাদের মেধা-মনন ও প্রজ্ঞার পাশাপাশি এই সব তরুণ প্রতিভাবনাদের সঠিক ও যথাযথ পরিচর্য্যাও খুব জরুরি।’

অনুকুল পরিবেশের প্রসঙ্গ এনে সালাউদ্দিন বলেন, ‘নিজেদের ভাল খেলার তাগিদ অব্যাহত থাকলে আর উপযোগি ও অনুকুল প্রেক্ষাপট, যথাযথ ক্রিকেট উপযোগি পরিবেশ পেলে বেশ কিছু হাইলি ট্যালেন্টেড ক্রিকেটার আছে, যারা দেশ ছাপিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও আলো ছড়াতে পারবে।’

সে তালিকায় সালাউদ্দিনের দৃষ্টিতে কারা কারা রয়েছেন? তিনি বলেন, ‘সেই তালিকায় আমার প্রথম পছন্দ লিটন দাস। সে কমপ্লিট ব্যাটসম্যান। সব শট খেলার সামর্থ্য আছে তার। এছাড়া নাজমুল হোসেন শান্ত, আফিফ হোসেন ধ্রুব’র মাঝেও আমি অমিত সম্ভাবনা খুঁজে পাই। শান্ত গত এক বছরে যেন প্রতিদিন উন্নতি করেছে। আর আফিফ হোসেন ধ্রুব’র ব্যাপারে আমি অনেক বেশি আশাবাদী। নিজেকে মেলে ধরার ইচ্ছেটা থাকলে আর সঠিক পরিচর্য্যা পেলে আফিফ হতে পারে অনেক বড় ক্রিকেটার।’

এর বাইরে পেসারদের মধ্যে সালাউদ্দীনের চোখ আছে তিন তরুণ শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ ও মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধর ওপর স্থির। সালাউদ্দীন মনে করেন, এই তিন তরুণই হবে আগামীতে বাংলাদেশের ফ্রন্টলাইন পেসার।

তার ব্যাখ্যা, ‘উচ্চতা, শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি আদর্শ ফাস্ট বোলার হবার সব রকম গুণাবলীই আছে ওই তিনজনের।’

এর বাইরে বাঁ-হাতি স্পিনার রাকিবুল হাসানেও মুগ্ধ সালাউদ্দিন। ওই মেধাবী তরুণ সম্পর্কে সালাউদ্দীনের মূল্যায়ন, ‘এখনই সাদা বলে সে দেশের অন্যতম সেরা স্পিনার। বড় স্পিনার হবার অনেক গুণই আছে তার ভেতরে।’