দিনাজপুরে সরিষা ফুলের হাসিতে স্বপ্ন বুনছে কৃষক

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : খাদ্যশস্যের ভান্ডার হিসেবে খ্যাত দিনাজপুর জেলায় এবার সরিষার চাষ ভাল হয়েছে। এ জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে একটি হাকিমপুর। এ বছর এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠ সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে। পৌষের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে হলুদ সরিষার ফুল। সরিষা ফুলের হলুদ রাজ্যে মৌমাছির গুঞ্জনে মুখরিত যেমন মাঠ, তেমনি বাম্পার ফলনের হাতছানিতে কৃষকের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। যেন সরিষার হলুদ হাসিতে স্বপ্ন বুনছে কৃষকেরা।

চলতি মৌসুমে হাকিমপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নে ৮২৫ হেক্টর জমিতে উন্নত জাতের সরিষা চাষ হয়েছে। বেড়ে ওঠা গাছ আর ফুল দেখে বেশি ফলনের স্বপ্ন দেখছেন কৃষকেরা। গত বছর স্থানীয় বাজারে উন্নত জাতের সরিষার দাম ভালো পাওয়ায় এবারও এ উপজেলার কৃষকেরা সরিষা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় ছাতনী গ্রামের কৃষক জয়নাল আবেদিন জানান, আমন ধান কাটার পর জমি তৈরি করে সরিষা আবাদ করা হয়। ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মাথায় সরিষা ফলন ঘরে আসে। তিনি জানান, তার ১ বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করতে খরচ হয়েছে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা। প্রতি বিঘায় ৩ থেকে ৪ মণ ফলন হয় সরিষার, যা বর্তমান বাজারে বিক্রি হবে ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। একই গ্রামের কৃষক মাসুদ বলেন, আমন ধান কাটার পর জমিগুলো পড়ে থাকে, তাই প্রতি বছর আমার জমিগুলোতে সরিষা চাষ করি। এবারও সরিষা চাষ করেছি। গাছ অনেক ভালো হয়েছে, আশা করছি ফলনও অনেক ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, জমিতে সরিষা চাষের সময় সার প্রয়োগ করলে বোরো রোপণের জন্য আলাদাভাবে সার দিতে হয় না। এটা আমাদের অনেক উপকারে আসে।

আলীহাট ইউনিয়নের কৃষক রোস্তম আলী বলেন, আমন কাটার পর সরিষা চাষ করলে আমাদের অনেক উপকার হয়। কারণ সরিষা কাটাই-মাড়াই করে সেটা বিক্রি করে দেই, সেই টাকা দিয়ে বোরো ধান লাগাই। এটা আমাদের একটা বোনাস ফসল। এছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন কৃষক বলেন, এটা স্বল্প খরচে একটি বোনাস ফসল যা প্রান্তিক কৃষকদের অনেক উপকারে আসে। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আমাদের বিভিন্ন সহযোগিতা ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. মমতাজ সুলতানা জানান, হাকিমপুর উপজেলায় এবার সরিষার চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর এই উপজেলায় ৮২০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হলেও এবার চাষ হয়েছে ৮২৫ হেক্টর জমিতে। আমরা সরিষা চাষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারিভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এবার ৩৮০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে ডিএপি, পটাশ ২০ কেজি ও ১ কেজি করে বীজ বিতরণ করা হয়েছে।