জেলা পরিষদ-এর সম্পত্তি উদ্ধারে অভিযান শুরু

স্টাফ রিপোটার, দিনাজপুর : অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর দিনাজপুর জেলা পরিষদের কয়েক কোটি টাকার সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে গড়ে ওঠা ব্ল্যাক সার্কেল নামের একটি প্রতিষ্ঠানে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুরে শহরের মিস্ত্রিপাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় দ্বিতল ভবন ভেঙে দেয়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে দখল হওয়া জমি পুনরুদ্ধার করা হয়।

অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু সালেহ মো. মাহফুজুল আলম বলেন, মূলত উচ্ছেদ কার্যক্রম চালিয়েছে জেলা পরিষদ। আমাদের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেছেন।

জানা যায়, দিনাজপুর জেলা শহরের পৗরসভা এলাকায় ১০ নং ওয়ার্ডের মিস্ত্রীপাড়ার এলজিইডি অফিস সংলগ্ন খামার ঝাড়বাড়ী মৌজায় জেলা পরিষদের মোট ৯ একর ৮৮ শতক জায়গা রয়েছে। করোনাকালীন সময়ে গত ৫ মাস আগে রাস্তা সংলগ্ন পুকুরের সামনের অংশে ৬ শতক জায়গার ওপর আধুনিক মডেলের দ্বিতল অফিসভবন তৈরি করে জায়গা দখল করে ব্যবসা শুরু করেন জাহিদ কামাল সৌদ। এছাড়াও দ্বিতলা ভবনের পেছনে দখলের জন্য ৩৩ শতকের একটি বিশাল পুকুর মাটি ফেলে ভরাটের কাজ শুরু করেন তিনি।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মাহমুদুল আলম বলেন, দখলদাররা জেলার আরো কিছু সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করে আছে। ইতিমধ্যে বেশকিছু অবৈধ জায়গা তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। অল্প কিছুদিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।

এদিকে পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে অবৈধভাবে শের এ বাংলা ক্লাব গড়ে উঠেছে। এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেবেন- এমন প্রশ্নে জেলা প্রশাসক বলেন, আইন সবার ক্ষেত্রেই সমান। সরকারি স্থানে কোন অবৈধ স্থাপনা থাকতে পারবে না। সরকারি জায়গা কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তিও জোড় করে দখল করে রাখতে পারবে না।

জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪২৫ বাংলা সনে জাহিদ কামাল সৌদকে ওই ৬ শতক জমি লিজ দিয়েছিলো জেলা পরিষদ। কিন্তু পরের বছর ওই লিজটি আর নবায়ন করা হয়নি এবং চলতি বাংলা সালেও (১৪২৭) তাকে লিজ দেয়নি জেলা পরিষদ। অথচ আগে থেকে দখল করা ওই জমিতে সে আধুনিক মডেলের দ্বিতল অফিস ভবন তৈরি করে জায়গাটি দখল করেন। এছাড়া ভবনটির পেছনে সরকারি পুকুরটিও মাটি ফেলে ভরাট করছেন তিনি। প্রকাশ্যেই এই জায়গা দখল করা হলেও দখলকারী ব্যক্তিকে নিষেধ পর্যন্ত করা হয়নি। এসব দেখভাল ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব জেলা পরিষদের।