পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের জামিন বাতিলে হাইকোর্টে আবেদন করবে দুদক

ঢাকা : অর্থ ও মানবপাচারের দায়ে কুয়েতে কারাবন্দি লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম ওরফে পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম ও মেয়ে ওয়াফা ইসলামকে বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন আদেশ বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই জামিন বাতিলে হাইকোর্টে আপিল আবেদন করবো। তবে সেটা বিচারিক আদালতে তাদেরকে দেওয়া জামিনের কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর।

এর আগে রবিববার (২৭ ডিসেম্বর) অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় পাপুলের স্ত্রী-মেয়ের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

রবিবার বিকেলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে তারা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক এ আদেশ দেন।

২২ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ তাদেরকে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। এর আগে ২৬ নভেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় তারা হাইকোর্টে আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন।

এরপর গত ১০ ডিসেম্বর অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের মামলায় তাদের ১০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের পর তারা নিম্ন আদালতে গেলে সেটি আদালতের ছুটি চলাকালে হবে নাকি পরে হবে তা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। পরবর্তীতে তারিখ পিছিয়ে ২৮ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের আত্মসমর্পণের আদেশ দেন হাইকোর্ট।

১১ নভেম্বর দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বাদী হয়ে দুই কোটি ৩১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ১৪৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে পাপুল, তার স্ত্রী সেলিনা এবং মেয়ে ওয়াফাসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামি হলেন- সেলিনার বোন জেসমিন প্রধান।

অর্থ ও মানবপাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হন সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম পাপুল। বর্তমানে তিনি কুয়েতের কারাগারেই আছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি পাপুলের বিরুদ্ধে মানবপাচারসহ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত উপায়ে শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।