আমনের ভরা মৌসুমেও চালের দাম বাড়ছে

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর : আমনের ভরা মৌসুমে দিনাজপুরে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ৩-৪ টাকা করে বেড়েছে। চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া দিনমজুর মানুষজন। ওএমএস’র মাধ্যমে চাল বিক্রিসহ ভারত থেকে চাল আমদানি করে দাম নিয়ন্ত্রণের দাবি চালের ক্রেতা ও বিক্রেতাদের।

দিনাজপুরের শষ্টিতলা মোড়ে ওএমএস’র চাল কিনতে আসা হাসিনা বেগম বলেন, ‘মানুষের বাড়িতে বা মিস্ত্রি হেলপার হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি, দিন আনা দিন খাটা মানুষ আমরা। গত কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত ও কুয়াশা অব্যাহত থাকায় কাজ কাম ঠিকমতো হচ্ছে না। যা কাজে যেতেও পারছি না। যার কারণে আয় কমে গেছে। এর ওপর ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ার কারণে আমরা তো বিপাকে পড়ে গেছি। চালের দাম বাড়ায় গরিব মানুষের সমস্যা হবেই। তাই যদি চালের দাম কমে আমাদের জন্য ভালো হবে।’

চাল কিনতে আসা ভ্যান চালক সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। বর্তমানে কাজ কাম তেমন নেই এর ওপর চালের দাম বেশি। সারাদিন ভ্যান চালিয়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা আয় হয়। চাল কিনতেই যদি সব টাকা শেষ হয় তাহলে কাঁচাবাজারসহ অন্য বাজার কীভাবে করবো।’

গৃহিনী মর্জিনা বেগম বলেন, ‘আমার সংসারে ৬ জন খানেওয়ালা। এর মধ্যে মাত্র একজন ইনকাম করে। তার ওপর দিয়ে ৪-৫ জন চলে। কিন্তু বর্তমানে যেভাবে চালের দাম বাড়ছে তাতে করে এত দাম দিয়ে আমাদের পক্ষে অসম্ভব ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
আরেক রহিমা বেগম বলেন, ‘চালের দাম বাড়ার কারণে আমাদের মতো গরিব মানুষের বেশি সমস্যা। কাজ কাম তেমন নেই এর ওপর চালের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেছে, আমাদের মতো গরিব মানুষের চাল কেনা সু-কঠিন হয়ে গেছে। সরকারের কাছে একটাই আবেদন যেন চালের দামটা একটু কমে এতে করে গরিব মানুষরা খেতে পারবে।’

বহাদুর বাজারে চাল কিনতে আসা আজিজার আলম বলেন, ‘একে তো করোনা মানুষের আয় আগের মতো নেই। আর যেভাবে চালের দাম বাড়ছে তাতে করে চালের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। মানুষজন যে দু’বেলা দুমুঠো ভাত খাবে, অন্তত চালের দামটা যদি মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকে সেটা আমাদের জন্য ভালো। আমরা আশা করবো সরকার এমন একটা ব্যবস্থা নেবে ওএমএসের চাল বিক্রির সাথে চালের আমদানি করুক বা যেকোনও একটা ব্যবস্থা করুক যাতে মানুষ ৪০ টাকার মধ্যে চাল ক্ষেতে পারে।’

বাহাদুর বাজারের চাল বিক্রেতা আনোয়ার বাবু বলেন, গত একসপ্তাহ ধরেই চালের বাজার বাড়তির দিকে। প্রত্যেকটি চাল কেজি প্রতি ৪-৫ টাকা করে বেড়েছে। যে স্বর্ণা চাল আগে ৪৩ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৪৭ টাকা, আটাশ জাতের চাল ৪২ থেকে বেড়ে ৪৮-৪৯ টাকা, মিনিকেট জাতের চাল ৫২-৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চালের দাম বাড়ায় বেচাকেনাও অনেকটা কমে গেছে আমাদের। আর চালের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে মিলাররা যেটা বলছেন তা হলো এবারে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর কারণে আগে যেখানে বিঘা প্রতি ধান হয়েছিল ১৪-১৫ মণ এবার তা কমে হয়েছে ৬-৭ মণ। যার কারণে কৃষকরা কম দামে ধান বিক্রি না করায় ধানের দাম বেশি। কোনোবার আমন ধান ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা বিক্রি হয়নি এবারে এই দামে বিক্রি হচ্ছে যার কারণে বেশি দামে ধান কিনতে হচ্ছে বিধায় চালের দাম বেশি। যার কারণে আমাদেরও বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে, বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। সরকারের উচিত এই সময়ে ভারত থেকে চাল আমদানি করে দাম নিয়ন্ত্রণ করা, তা না হলে চালের দাম আরও বাড়বে।

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বিশেষ করে চালের মূল্য অস্থিতিশীল করার অনেক দিক থেকেই একটা অপচেষ্টা সবসময় থাকে বা করা হয়। এবিষয়ে জেলা প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছি। চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে ও ন্যায্যমূল্য যেন নিশ্চিত করা যায় সে লক্ষ্যে আমরা নিয়মিত বাজার ব্যবস্থা মনিটরিং করে থাকি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের মূল্য যথাযথ আছে কিনা সে বিষয়টি আমরা মনিটরিং করি। চালের মূল্য বেশি এমন অভিযোগ মানুষের কাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে। তবে কেউ যদি অকারণে চালের মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।