দ্বিতীয় প্রণোদনা প্যাকেজ

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনারভাইরাস বা কোভিড-১৯ এর প্রথম ঢেউয়ের রেশ শেষ না হতেই শুরু হয়েছে দ্বিতীয় ঢেউ। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। ইউরোপ-আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়া-কানাডার অবস্থা তো এক কথায় ভয়াবহ। এসব দেশে সংক্রমণ ও মৃত্যুহার বাড়ছেই। ফলে নতুন করে আরোপ করতে হয়েছে লকডাউনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা। খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের শুভ বড়দিন ও নববর্ষের আনন্দ-উৎসব প্রবল তুষারপাতের নিচে চাপা পড়ার উপক্রম হয়েছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অবস্থাও বেগতিক। বিশ্বের অনেক দেশের সঙ্গেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে অথবা নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আসছে। নতুন ধরনের করোনাভাইরাসের কথাও শোনা যাচ্ছে। অথচ সর্বস্তরে রোগ প্রতিরোধক ভ্যাকসিন আসতে এখনও অনেক দেরি। সরকার অবশ্য বলছে, ২০২১ এর জুনের মধ্যে অন্তত ৯ কোটি লোককে ভ্যাকসিন দেয়ার প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। গুরুত্ব দেয়া হয়েছে মুখে মাস্ক, হাত ধোয়া, স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ওপর। এর পাশাপাশি লকডাউনের কথা আপাতত চিন্তা না করা হলেও আর্থিক ক্ষতি ও ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী বুধবার একনেক বৈঠকে দ্বিতীয় প্রণোদনা প্যাকেজ প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন অর্থ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের।

বর্তমান সরকার অবশ্য বিশেষ করে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে যথাসম্ভব দরিদ্রবান্ধব কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। এক কোটি ওএমএস কার্ডের আওতায় অন্তত পাঁচ কোটি জনসংখ্যাকে নিয়ে আসার চেষ্টা চলেছে রেশনিংয়ের আওতায়। দশ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। টিসিবির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে দেয়া হচ্ছে নানাবিধ নিত্যপণ্য। সরকার পোশাক খাত, কৃষি, শিল্প সেক্টরসহ বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় এক লাখ ২০ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা দিয়েছে। জাতীয় প্রবৃদ্ধির ধারা এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে তা সহায়ক হয়েছে নিশ্চয়ই। তবে মনে রাখতে হবে বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশের অর্থনীতিই মূলত বিশ্বায়নের সঙ্গে সংযুক্ত। পরস্পর পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। এই অবস্থায় করোনার দ্বিতীয় ঢেউ পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনীতির চেহারা কি দাঁড়াবে, তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারে না। তবে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, চরম এক মহামন্দার কবলে পড়তে যাচ্ছে বিশ্ব। এর পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী খাদ্য সঙ্কট তথা দুর্ভিক্ষের পূর্বাভাসও দিয়েছে বিশ্ব খাদ্য সংস্থা। অন্তত ৩৬টি দেশে দুুর্ভিক্ষের আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছে সংস্থাটি।

বাংলাদেশ অবশ্য এদিক থেকে ভাল অবস্থানে রয়েছে। বোরো ও আমনের ফলন ভাল হওয়ায় দেশে আগামীতে খাদ্য সঙ্কটের সম্ভাবনা নেই। গ্রামগঞ্জের ধান-চালের মোকামগুলো এখন জমজমাট। তবে বহির্বিশ্বে পোশাক রফতানির চ্যালেঞ্জ রয়েই গেছে। প্রণোদনা পেলে পোশাক শিল্প মালিকরা তা দক্ষতা ও যোগ্যতার সঙ্গে মোকাবেলা করতে সক্ষম হবেন নিশ্চয়ই। গত বছর থেকে নগদ প্রণোদনা দেয়ায় প্রবাসী আয়ও যথেষ্ট ইতিবাচক। সরকার গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণাধীন বলা চলে। তবু সতর্ক ও সাবধানতার বিকল্প নেই। সে অবস্থায় যথাযথ সুরক্ষাসহ শিল্প-কারখানাসহ মেগা প্রকল্পগুলো সচল এবং সর্বস্তরের মানুষ উদ্যোগী হলে জীবন-জীবিকা চলতে পারে হাত ধরাধরি করে।