চালকল মালিকদের কারসাজিতে চালের মূল্যবৃদ্ধি: কৃষিমন্ত্রী

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : চালকল মালিকরা (মিলার) নানা কারসাজি করে বাজারে চালের দাম বাড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক। তিনি বলেন, চালের দাম কেন এত বাড়বে, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। ১-২ টাকা বাড়াও কিন্তু অনেক বাড়া। সেখানে ৩২-৩৩ টাকার মোটা চাল ৪৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কারণগুলো কি?

রবিবার (২৭ ডিসেম্বর) সচিবালয় থেকে ভার্চুয়ালি গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএআরআই) গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনে ভূমি উন্নয়ন ও পূর্ত কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এ কথা জানান।

বর্তমানে চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী। সাধারণ মানুষ কষ্ট পাচ্ছে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ভরা মৌসুমে আমনের দাম একটু বেশি। সরকার চেষ্টা করছে কোনোভাবেই যাতে রিকশাওয়ালা, ভ্যানওয়ালা, নিম্ন আয়ের মানুষ, কম আয়ের মানুষ তাদের যেন কোনো কষ্ট না হয়। সেটা বিবেচনায় নিয়ে সরকার ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) চালু করেছে, অব্যাহতভাবে খোলাবাজারে চাল বিক্রি করছে।’

তিনি বলেন, ‘ তিনি বলেন, চলতি বছর দুই দফা বন্যার কারণে আউশ ও আমন ফলনের কিছু ক্ষতি হয়েছে। তবে উৎপাদনের যে পরিসংখ্যান সরকারের হাতে আছে, তাতে চালের এত ঘাটতি হওয়ার কথা নয়। চাল উৎপাদনে ঘাটতি মেটানোর জন্য সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, আমরা ৫-৬ লাখ টন চাল বিদেশ থেকে আমদানি করবো। সরকারি গুদামেও চাল কমে গেছে। গত বছর প্রায় ১৩ লাখ টনের মতো খাদ্যশস্য ছিল সরকারি গুদামে। এবার সেটা কমে ৭ লাখ টনে নেমে এসেছে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘এই যে ৫-৬ লাখ টনের ঘাটতি এ ঘাটতি আমরা যদি না মেটাতে পারি, বাংলাদেশের মিলাররা, আড়তদাররা, জোতদাররা যারা চালের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে তারা চালের দাম বাড়ায় এবারও তারা সেই কাজ করছে। এ মৌসুমের সময় এখনো তারা ধান কিনছে। ধানের দাম ও চালের দাম দুটিই তারা বাড়িয়ে দিয়েছে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি অতটা চালের ঘাটতি আমাদের নেই। কিন্তু এ সুযোগে মিলাররা নানা কারসাজি করে চালের মূল্যবৃদ্ধি করার চেষ্টা করছে। আমরা যদি বিদেশ থেকে এনে চালের বাজার বাড়াতে পারি, আমার মনে হয় না খুব অসুবিধা হবে।’