গরিব কৃষকদের বীজতলা ধ্বংস করলো কারা?

নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারী সদরের পলাশবাড়ী ইউনিয়নের নটখানা গ্রামের হাউদার বিলে শত্রুতার জেরে ৩৫ কৃষকের বোরোর বীজতলা নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বোরো আবাদ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ভুক্তভোগী কৃষক।

তাদের অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গভীর রাতে বোরো আবাদের জন্য করা ওই বীজতলায় আগাছানাশক স্প্রে করা হয়েছে। ফলে প্রায় এক একর আয়তনের বীজতলার চারা শুকিয়ে মরে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘বীজতলার বয়স প্রায় এক মাস। কোনও রোগ-বালাইয়ে এভাবে কখনও নষ্ট হতে দেখিনি। ধারণা করা হচ্ছে শত্রুতার জের ধরে কেউ আগাছানাশক স্প্রে করে দিয়েছেন ওই বীজতলায়। এতে আব্দুল মোন্নাফ, ভবেশ চন্দ্র দাস, জিতেন, মিঠুন চন্দ্র, অভিনাশ চন্দ্র, আলমাস হোসেন, কানু দাস, সুভাষ চন্দ্র, মহেশ চন্দ্র, নূর আলমসহ ৩৫ জন কৃষকের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এভাবে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় এসব কৃষকের প্রায় ৮০ বিঘা জমির বোরো আবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।’
শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক একর এলাকা জুড়ে এই বীজতলা। চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি উঁচু চারাগুলো শুকিয়ে বিবর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর আমি ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। সাধারণত কোনও রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ হলে মাঝে-মধ্যে চারা নষ্ট হয়, কিন্ত একসঙ্গে পুরো এলাকার চারা নষ্ট হয় না। আর সেটিতে বালাইনাশক স্প্রে করলেই সেরে উঠে। এটি কোনও রোগ-বালাইয়ের কারণে নয়, অন্য কারণে নষ্ট হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমি কৃষকদের ১৮ কেজি বোরো ধান বীজ প্রদান করেছি। সেটি দিয়ে চারা তৈরি করে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন। এছাড়া দুর্যোগের আশঙ্কায় কৃষকরা প্রতি বছর অতিরিক্ত বীজতলা তৈরি করেন, এবারও তাই করেছেন। দুর্যোগ না থাকায় ওই অতিরিক্ত চারা ব্যবহার করতে পারবেন তারা।’