উগান্ডা-কঙ্গো সীমান্তে নৌকাডুবি, ২৬ জনের মৃত্যু

মিরর ডেস্ক :আফ্রিকার দেশ উগান্ডা এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো সীমান্তে অবস্থিত আলবার্ট লেকে একটি নৌকাডুবির ঘটনায় কমপক্ষে ২৬ জন নিহত হয়েছে। স্থানীয় এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে ওই দুর্ঘটনা ঘটেছে।

আশরাফ ওরোমো নামের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় নৌকাটিতে কয়েক ডজন যাত্রী ছিল। দুর্ঘটনার পর কমপক্ষে ২১ জনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এক নৌ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার ঘাটতি এবং দ্রুত আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে ওই লেকে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থল থেকে আর কাউকে জীবিত উদ্ধারের আশা দেখছেন না তারা। তবে স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।

স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই নৌকাটিতে কঙ্গো এবং উগান্ডা উভয় দেশের নাগরিকই ছিলেন। দুর্ঘটনায় দু’দেশেরই বেশ কয়েকজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নৌকার বেশ কয়েকজন যাত্রী অবৈধভাবে কঙ্গোতে ফিরে আসার চেষ্টা করছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাসের কারণে কঙ্গোতে কড়াকড়ি জারি হয়েছে। ফলে উগান্ডা এবং কঙ্গোর মধ্যে লোকজনের যাতায়াত বন্ধ রয়েছে।

কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের ওয়ানগংগো চিফডমের প্রেসিডেন্ট ভিটাল আদুবাংগা বলেন, দুর্ঘটনার দিন সব ধরনের নৌ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আনা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা কবলিত নৌকাটি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই যাত্রী পরিবহন করেছিল।

আদুবাংগা বলেন, ওই নৌকার যাত্রীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন ব্যবসায়ী। তারা প্রায় প্রতি সপ্তাহেই ব্যবসায়ের কাজে দু’দেশের মধ্যে যাওয়া-আসা করে থাকেন। উগান্ডার ওয়েবসাইট ডেইলি মনিটরের এক প্রতিবেদনেও একই কথা বলা হয়েছে।

লেক আলবার্ট আফ্রিকার সপ্তম বৃহত্তম লেক। এই লেকে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এর আগেও ওই লেকে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।

২০১৪ সালে ওই লেকে এক দুর্ঘটনায় আড়াইশ’র বেশি শরণার্থী এক নৌকাডুবির ঘটনায় প্রাণ হারায়। নৌকাটিতে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী নেওয়া হয়েছিল। ২০১৬ সালে বড় দিনের উৎসবের সময় পৃথক একটি ঘটনায় নৌকাডুবে ৩০ জনের মৃত্যু হয়। এরা সবাই উগান্ডার একটি ফুটবল টিমের সদস্য ছিলেন।