মনোনয়ন ফরম তুলতে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের হিলিতে আসন্ন তৃতীয় দফায় অনুষ্ঠেয় হাকিমপুর পৌরসভা নির্বাচনে ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মেয়র পদে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র উত্তোলনের সময় বিভিন্ন নামে বাড়তি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়নপত্র উত্তোলনকারী কয়েকজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী নাম প্রকাশ না করে অভিযোগ করেন, তৃতীয় দফায় নির্বাচন হবে হাকিমপুর পৌরসভায়। এ নির্বাচনে আমরা ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে আগ্রহী। সে মোতাবেক আমরা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মনোনয়ন পত্রের ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা ও সিডি নেওয়ার জন্য ৫শ’ টাকা এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদের জন্য মনোনয়ন পত্রের ফি বাবদ ৫ হাজার ও সিডি বাবদ ১ হাজার ৫শ’ টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করে সেই চালানের কপি জমা দিয়ে সকল প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসে মনোনয়ন ফরম নিতে যাই। কিন্তু, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এই টাকার অতিরিক্ত আরও ৫০০ টাকা জোর করে আদায় করছেন যার কোনও চালান বা রশিদ দিচ্ছেন না। এছাড়াও সিডি নিতে গিয়েও ১শ টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নিজের, প্রস্তাবকারী, সমর্থনকারী, ও শনাক্তকারীর ভোটার আইডি কার্ড অনলাইনে যাচাইয়ের নামে প্রত্যেকের জন্য ২৫০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এরও কোনও রশিদ দেওয়া হচ্ছে না।

মনোনয়ন পত্র গ্রহণকারী সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে হাকিমপুর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শফিকুর রহমান আকন্দ তার দফতরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টিকে উড়িয়ে দেন। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের প্রত্যেক প্রার্থীর কাছ থেকে ভোটার তালিকা সম্বলিত সিডির জন্য ৫শ’টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। সেটা চালান মূলে তারা জমা দিচ্ছেন। তবে কোনও বিষয়ে কারও কাছ থেকে কোনও প্রকার বাড়তি অর্থ নেওয়া হচ্ছে না। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই বলে দাবি করেন তিনি।

সিডি নেওয়ার জন্য ট্রেজারি চালানে ৫শ’ টাকা দিয়ে আসার পরেও আরও ৫শ’ টাকা কেন দিতে হবে সে বিষয়ে কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

প্রসঙ্গত, গত গত ১৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনের জন্য যে তফসিল ঘোষণা করেছে তাতে হাকিমপুর পৌরসভা রয়েছে। এ পৌরসভায় আগামী ৩০ জানুয়ারি ভোট অনুষ্ঠিত হবে।