ভ্যাকসিনে শুকরের চর্বি! করোনার টিকা হালাল নাকি হারাম?

মিরর ডেস্ক : করোনা নির্মূলে যখন দেশে দেশে জোরেশোরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে, তখন অস্বস্তিতে পড়েছেন রক্ষণশীল মুসলিমরা। টিকা তৈরির মূল উপকরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে মুসলিম দেশগুলোতে। অনেকেরই অভিযোগ— এই টিকায় ব্যবহার হয়েছে শূকরের চর্বি!

এরই মধ্যে প্রধান টিকা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ফাইজার, মডার্না এবং অ্যাস্ট্রোজেনেকার প্রতিনিধিরা জানিয়েছে, তাদের টিকার মূল উপকরণে শূকর বা এর প্রক্রিয়াজাত কোনো উপাদান নেই। তবে ধারণা করা হচ্ছে, টিকার ব্যাপক উৎপাদন ও সহজলভ্যতা নিশ্চিতে কয়েকটি দেশ টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহনে যে ‘জেলাটিন’ ব্যবহার করবে সেটিতে শূকরের চর্বির উপস্থিতি থাকতে পারে। মূলত ভ্যাকসিনের উপাদানকে বাইরের তাপমাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে মুক্ত রাখতেই ব্যবহার হয় এই ‘জেলাটিন’।

বিশ্বে বহুল অনুসারী দুই ধর্ম ইসলাম ও ইহুদিতে শূকরকে ‘অপবিত্র পশু’ হিসেবে দেখা হয় বলে এর সকল প্রকার ব্যবহার নিষিদ্ধ। ফলে মুসলিমদের ‘হালাল’ এবং ইহুদিদের ‘কোশার’ খাবার ও ভোগ্যপণ্যের তালিকা থেকে বাদ পড়েছে শূকর ও এর প্রক্রিয়াজাত পণ্যগুলো।

এদিকে জেলাটিন ছাড়া টিকার সংরক্ষণ ও পরিবহন অত্যন্ত ব্যয় বহুল হয়ে পড়ায় বিশ্বের কেবল গুটিকয়েক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থে জেলাটিনবিহীন ভ্যাকসিন সংরক্ষণনীতি অনুসরণ করছে। আর স্বল্পমূল্যে জেলাটিন উৎপাদনের জন্যে প্রয়োজন হয় শূকরের চর্বি। তাই মুসলিম দেশগুলোর পাশাপাশি করোনা টিকার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সন্দিহান ইসরাইলের জনগণও।

এমন অবস্থায় টিকার ব্যবহার নিয়ে বিভিন্ন দেশের আলেম সমাজ ও ইসলামিক সংগঠনগুলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এরই মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতে সর্বোচ্চ ধর্মীয় সংগঠন ইউএই ফতোয়া কাউন্সিলসহ বেশ কয়েকটি দেশ জেলাটিনযুক্ত টিকার বৈধতার অনুমোদন দিয়েছে। এসব দেশের আলেমরা জানান, ইসলামে জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনে হারাম বস্তু ব্যবহারের বিধান রয়েছে। আর তাই শূকরের জেলাটিন থাকলেও করোনা টিকা ব্যবহার করা যাবে।

অন্যদিকে ভারতের অল ইন্ডিয়া সুন্নি জামিয়াত উলামাসহ কয়েকটি দেশের সুন্নি মুসলিমদের সংগঠনগুলো এই টিকার মূল উপকরণ জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। চীনসহ বিভিন্ন দেশের ভ্যাকসিনের জেলাটিন শূকরের চর্বিতে তৈরি হচ্ছে দাবি করে এসব টিকা বয়কটের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। এবিপি নিউজসহ ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ খবর প্রকাশ হয়।