বেকারত্বের অভিশাপ মুক্ত হোক দেশ

পৃথিবীতে যে কয়টি দেশ স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করেছে বাংলাদেশ তাদের মধ্যে অন্যতম। সুদীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতার বয়স আজ ৪৯ বছর। বাংলাদেশের স্বাধীনতা কারো দানে নয়, বরং বহু প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত। সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেনরী কিসিঞ্জারের `তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যায়িত করা দেশটি আজ বিভিন্ন অর্জনের মাধ্যমে বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে স্বমহীমায়। বহুত চড়াই-উতরাই পার করেই অর্জিত বাংলাদেশের আজকের অবস্থানে।

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্য আয়ের দেশে, উন্নয়নশীল দেশ হতে উন্নত দেশের কাতারে। বাংলাদেশ আজ নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বিশাল স্থাপনা করে সক্ষম। বাংলাদেশ থেকে আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নানা ধরনের পণ্য রপ্তানি হয় বিপুল পরিমাণে, আজ বাংলাদেশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণেও সফল। এছাড়াও জীবনযাত্রার মান, অবকাঠামো গত উন্নয়ন, শিক্ষা, সাহিত্য, সাংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি সকল ক্ষেত্রেই রয়েছে আমাদের অভাবনীয় সাফল্য। তবুও কিছু ক্ষেত্রে রয়েছে অপ্রাপ্তি। একটি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে আমার রয়েছে কিছু নিজস্ব চাওয়া, কিছু প্রত্যাশা। আমি স্বপ্ন দেখি এসব প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ পরিণত হবে সোনার বাংলায়।

আমি এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে পুরুষের পাশাপাশি নারীদেরও থাকবে স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার, রাস্তায় একা চলার অধিকার। বর্তমান সময়ে ধর্ষণ সমাজের একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। নারীরা আজ কোথাও নিরাপদ নয়। স্বপ্নের বাংলাদেশে কোথাও থাকবে না ধর্ষণের মত জঘন্য অপরাধ। প্রত্যাশা থাকবে মানুষের মাঝে বিবেকবোধ জাগ্রত হওয়ার মাধ্যমে দেশ থেকে ধর্ষণ নামক শব্দটির বিলুপ্তি ঘটবে অচিরেই। নারী নির্যাতন মুক্ত হবে পুরো দেশ। এসিড নিক্ষেপ, ইভটিজিং থেকে নিরাপদ থাকবে নারী সমাজ। বাল্যবিবাহ থাকবে না দেশের কেন জেলাতে। নারী শিক্ষার সুযোগ পাবে দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের নারীরা। সর্বোপরি, দেশের সকল নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হবে।

দেশের নাগরিকের জন্য নিশ্চিত হবে নিরাপত্তা। নিজের জীবনের নিরাপত্তার ভয়ে না থেকে দেশের জনগণ ঘুমাতে পারবে নিশ্চিন্তে। নিজের মত প্রকাশের জন্য আর কাউকে জীবন দিতে হবে না অপঘাতে। নিশ্চিত হবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। দেশ থেকে বিলুপ্ত হবে ক্ষুধার্তের আর্তনাদ। খাদ্যের অভাবে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হবে না স্বাধীন দেশের কোন নাগরিককে। ফুটপাতে ঘুমাতে হবে আর কাউকে। সকলের জন্য নিশ্চিত হবে নিরাপদ আবাসন সুবিধা। সমাজের উচ্চ শ্রেণির পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য নিশ্চিত হবে সকল নাগরিক সুবিধা। কৃষক পাবে তার শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত ফসলের নায্য মূল্য।

বেকারত্বের মহামারি থেকে মুক্ত হবে দেশের সকল মানুষ। বিভিন্ন ধরনের কর্মমুখী শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ হবে একটি বেকারত্বের অভিশাপ মুক্ত দেশ। সকল জনগণের জন্য যোগত্য অনুযারী থাকবে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বর্তমানের দুর্নীতি যেন বাংলাদেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে পৌঁছেছে। বহু প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত একটি দেশের চিত্র এমন হওয়াটা মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়, তাই চাওয়া থাকবে বাংলাদেশ হবে দুর্নীতিমুক্ত একটি সোনার বাংলাদেশ। যেখানে থাকবে না কোন ভেদাভেদ, ধনী গরীব সকলেই পাবে সমান সুযোগ সুবিধা৷ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে দেশের প্রতিটি নাগরিক। শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কুসংস্কার মুক্ত সমাজ গঠিত হবে দেশের প্রতিটি জেলায়।

দেশ থেকে দূর হবে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। মাদকের ভয়াল থাবায় আজ থমকে গেছে পুরো দেশ। যেসব তরুণদের আজ দেশের দায়ভার হাতে নেওয়া শেখার কথা তারা আজ মাদকের দ্বারা, বিভিন্ন ধরনের অন্যায় কাজের দ্বারা শাসিত। অথচ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের একটি বড় অংশই ছিলো দেশের তরুণ-যুব সমাজ। তাই প্রত্যাশা থাকবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে মাদকমুক্ত হবে আমাদের সমাজ। সকল ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হ্রাস পাবে দ্রুত গতিতে। তরুণদের হাত ধরে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

দেশে বর্তমানে চালু রয়েছে বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা। এসব সেবা গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে আপন গতিতে। মানুষের সময়, শ্রম ও অপচয় কমিয়ে এনেছে এসব সেবাসমূহ। ডিজিটাল সেবার আওতাভুক্ত হবে দেশের প্রতিটি জেলা। গ্রাম শহরের সকল শ্রেণি পেশার লোক পাবে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবা। এসব সুবিধা দেশের সকল প্রান্তে পৌঁছানোর মাধ্যমে দেশ রুপান্তরিত হবে একটি ডিজিটাল দেশে।

লাখো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ হবে সকল ধরনের বৈষ্যমমুক্ত একটি দেশ। ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আপন গতিতে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। সকল ধরনের সাম্প্রদায়িকতার অবসান হবে। রাজনৈতিক দাঙ্গা হাঙ্গামা মুক্ত থাকবে দেশ। দলীয় স্বার্থে নয়, দেশের স্বার্থে কাজ করে যাবে দেশের সকল জনপ্রতিনিধি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিক পালন করবে নিজ নিজ দায়িত্ব। এভাবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশ পরিণত হবে একটি উন্নত রাষ্ট্রে সেই প্রত্যাশায়।