স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে হিলি স্থলবন্দর, বেড়েছে পণ্য আমদানি

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : করোনা পরিস্থিতি কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে শুরু করেছে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর। বন্দর দিয়ে দু’দেশের মাঝে পণ্য আমদানি রফতানি বাণিজ্য বেড়েছে। করোনার কারনে ২৬ মার্চ থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বাণিজ্য কার্যক্রম বন্ধ হয়। আড়াই মাস পর ৮ জুন বন্দর দিয়ে পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা শাহীন বলেন, দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড চালু হওয়ায় পাথরসহ বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে ওইসব প্রজেক্টসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছেন। যার কারণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগের চেয়ে পণ্য আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। এতে করে বন্দরের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটেছে।

বাংলাহিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল আজিজ বলেন, দীর্ঘ আড়াই মাস বন্ধের পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি কার্যক্রম শুরু হলে সে সময় বন্দর দিয়ে ১৫০-১৬০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো, মাঝে এই সংখ্যা আরও কমে গিয়েছিল। বর্তমানে লকডাউন ও করোনার প্রভাব কাটিয়ে ওঠার ফলে বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরেছে ও গতিশীল হয়েছে এবং ট্রাকের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে সরকারের রাজস্ব আয় যেমন বেড়েছে তেমনি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের ব্যবসা বাণিজ্যের পরিধি বেড়েছে।
হিলি স্থলবন্দরে কর্মরত শ্রমিক হান্নান শেখ ও রবিউল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘ আড়াই মাস হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। যার কারণে এসময় আমাদের কোনও কাজকর্ম ছিল না, কোনও আয় ইনকাম ছিল না। যার কারনে পরিবার পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে হয়েছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি শুরু হওয়ায় ও আগের চেয়ে বাড়ার কারনে ১০ টাকা হলেও পাচ্ছি তাই দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারছি।

পানামা হিলি পোর্ট লিংক লিমিটেডের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আগের চেয়ে পণ্য আমদানির সংখ্যা বেড়েছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে পাথর, গম, ভুট্টা, খৈল, ভুষি, বাদাম, কাঁচামরিচ, মটরশুটিসহ সবধরনের পণ্যই আমদানিই হচ্ছে। আগে যেখানে বন্দর দিয়ে ১৩০-১৫০ ট্রাক পণ্য আমদানি হতো। এখন বর্তমানে তা বেড়ে ২০০-২১০ ট্রাক পণ্য আমদানি হচ্ছে। বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বৃদ্ধির ফলে সরকারের যেমন রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি বন্দরের দৈনন্দিন আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। একইসঙ্গে কাজ বাড়ার কারণে শ্রমিকরাও উৎফুল্ল।

হিলি স্থল শুল্ক স্টেশনের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম বলেন, বর্তমানে হিলি স্থলবন্দরের আমদানি রফতানি কার্যক্রম খুবই স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। এখানে গতকয়েক মাস ধরে যে করোনার প্রভাব ছিল সেটি কাটিয়ে উঠে একটা স্বাভাবিক অবস্থায় এসেছি। বর্তমানে বন্দর দিয়ে দিন দিন যে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম রয়েছে সেটি বাড়ছে। আর বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি বাড়ার কারনে স্বাভাবিক ভাবেই বন্দরের রাজস্ব আহরণও বেড়ে যায়। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত যে রাজস্ব হিসেবে রয়েছে তাতে করে ৮০ কোটি ৩১ লাখ টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আহরণ হয়েছে ১৩০ কোটি ৫ লাখ টাকা। আশা করছি বন্দর দিয়ে আমদানি রফতানি আরো বাড়বে। এতে করে অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বাড়তি রাজস্ব আহরণ সম্ভব হবে।