‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে মানসম্মত-নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ’

ঢাকা : বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত এগিয়ে যাচ্ছে। স্বচ্ছতার সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ দিতে কাজ করছে সরকার। অনেক ঘাটতির মধ্যেও মানসম্পন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে শতভাগ বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি বিতরণ ও সঞ্চালনে জোর দেওয়া হলেও স্বাধীনতার ৫০ বছরে মানসম্মত-নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। রবিবার (২০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে জ্বালানি খাতের অর্জন ও করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

পাক্ষিক ‘এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার’ ম্যাগাজিন আয়োজিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদ। পত্রিকাটির সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেনের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সুফি। আলোচনায় অংশ নেন পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মোক্তাদির আলী, বাপেক্সের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মর্তুজা আহমেদ ফারুক, পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ, সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ খান, এনার্জিপ্যাকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজওয়ানুল হক কবির।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এই খাতে স্বচ্ছতার কোনও সমস্যা নেই। আমাদের অনেক ঘাটতি আছে। এই ঘাটতির মধ্যেও আমরা সর্বোচ্চ পরিমাণে বিদ্যুৎ দিচ্ছি। আরও এফিশিয়েন্সি দরকার। আরও বিনিয়োগ দরকার। তাহলে আমরা আরও এগিয়ে যেতে পারবো। স্বাধীনতার ৫০ বছরে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি, আরও এগিয়ে যাবো।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।  ভুল হবে, সংশোধন হবে, সংস্কার চলছে—এর মধ্য দিয়েই আমরা এগিয়ে যাবো। তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে মানসম্মত-নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ।’

পেট্রোবাংলার সাবেক পরিচালক মুক্তাদির আলী বলেন, ‘আমরা সব কাজই করি। তবে  সময় চলে যায় অনেক। এলএনজি আনতে আমাদের সময় লেগেছে ৯ বছর। এলপিজি সরকারিভাবে আনার চেষ্টা করেছিলাম তা নয়। সিএনজি আনায় পরিবেশ ভালো হয়েছে। সালটা ছিল ২০০০। ক্যাপ্টিভ পাওয়ার বেসরকারিরাই করছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতীয় স্বার্থ আমাদের দেখতে হবে। দামের ক্ষেত্রে মার্কেট ভ্যালু দেখতে হবে। সাবসিডি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

পিডিবির সাবেক চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা শতভাগ বিদ্যুতায়নের প্রায় শেষ দিকে। এখন আমাদের মনোযোগ দিতে হবে সঞ্চালনে আর অবকাঠামোর দিকে।’

সামিট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজিজ খান বলেন, ‘৩০০০ মেগাওয়াট থেকে আমরা ২২ হাজার মেগাওয়াটে আসছি। যেখানে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও গণতন্ত্র আছে, সেখানে উন্নয়ন দ্রুত ঘটে। প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি খাতকে কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন। বিপুল বিনিয়োগ করছেন তারা। এতে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি বড় অংশ আজ বেসরকারি খাত করছে।’