দিনাজপুরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস পালিত

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর : নানা আয়োজনে দিনাজপুরে পালিত হলো জাতীয় পতাকা উত্তোলন দিবস। মুক্তিযোদ্ধা, জনতার অংশগ্রহনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও এম আব্দুর রহিমকে স্বরণ করলো মুক্তিযোদ্ধা ও জনতা। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য, মুজিব নগর সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোন ১ এর চেয়ারম্যান তৎকালীন এমপিএ এম.আব্দুর রহিম ১৯৭১ সালে ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সামরিক গার্ড অব অর্নার প্রদান করেন মিত্র বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার ফরিদ ভাট্টি ও কর্ণেল শমসের সিং।

এম.আব্দুর রহিমের স্মৃতিকে ধারণ করে শুক্রবার এম.আব্দুর রহিম সমাজ কল্যাণ ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের আয়োজনে দিনাজপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পতাকা উত্তোলন দিবস পালন করা হয়। শুক্রবার সকাল ১০ টায় দিনাজপুর ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গনে ‘‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’’ জাতীয় সংগীতের মধ্যে দিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আনিসুর রহমান।

এ সময় সাবেক মুক্তিযোদ্ধারা জাতীয় পতাকাকে সালাম জানায়। এরপর হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর এম.আব্দুর রহিমের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানান এম আব্দুর রহিম সমাজ কল্যান ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষনা কেন্দ্রের কার্যকরী সভাপতি শফিকুল হক ছুটু ও সাধারন সম্পাদক চিত্ত ঘোষসহ নেতৃবৃন্দ, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ইমদাদ সরকার, দিনাজপুর শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এড. তহিদুল হক সরকার, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক নাসিরুল হক রুস্তম, বিএমএ’র সাধারন সম্পাদক ডা. বি.কে.বোস, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক গোলাম নবী দুলাল, শহর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রায়হান কবীর সোহাগ, সাধারন সম্পাদক এস এম খালেকুজ্জামান রাজু, সাংগঠনিক সম্পাদক এনাম উল্লাহ জেমী, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক তারিকুন বেগম লাবুনসহ দিনাজপুর প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, সদর উপজেলা পরিষদ, দিনাজপুর এম.আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ, দিনাজপুর কেবিএম কলেজ, আদর্শ মহাবিদ্যালয়,হাবিপ্রবি ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, জেলা ও শহর মহিলা লীগ, শ্রমিক লীগ ও যুব-ছাত্র ছাত্রীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষ।

এর পর বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য অবমাননার প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবীতে মানববন্ধন কর্মসুচী পালন করা হয়। মানববন্ধন চলাকালীন জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুরের নায়কদের কঠোর হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাংচুর করে বঙ্গবন্ধুকে কোটি কোটি মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যাবে না। স্বাধীন বাংলাদেশকে মেনে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে স্মরন না করলে এদেশের জনতা স্বাধীনতা বিরোধীদের এক বিন্দু ছাড় দিবে না। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনার সাথে কোন আপোষ হবে না।