নারায়ণগঞ্জে সেপ্টিক ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণে শিশুসহ নিহত ২

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার রামারবাগ এলাকায় একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার সেপ্টিক ট্যাঙ্ক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে এক শিশুসহ দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন- শিশু জিসান (৯) ও গার্মেন্টস কর্মী রাজ্জাক মিয়া (৩২)। একই ঘটনায় আহতরা হলেন- শাকিব (১০) ও সাঈদা বেগম (৩৫)। আহত দুইজনকে ঢাকা মেডিকল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানান, ফতুল্লার রামারবাগ এলাকার মৃত হাসান খানের মালিকানাধীন তিনতলা বাড়ির নিচতলার সেপ্টিক ট্যাঙ্কে গ্যাস জমে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আকস্মিকভাবে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ওই ট্যাঙ্কের উপরের অংশ চুর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যায়। এছাড়াও একটি কক্ষের দেয়াল ভেঙ্গে কক্ষটি বিধস্ত হয়ে যায়। এ সময় ট্যাঙ্কের পাশের রাস্তা দিয়ে হেটে যাওয়ার সময় শিশু জিসান, গার্মেন্টস কর্মী রাজ্জাক মিয়া, শাকিব ও সাঈদা বেগম আহত হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন আহতদেরকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে শিশু জিসান ও রাজ্জাককে চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করেন।

ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসলাম হোসনে জানান, বিষ্ফোরণের ঘটনায় শিশুসহ দুইজন নিহত হয়েছে। একই ঘটনায় আরো দুইজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপরজন এখনো নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাড়ির মালিকের ছেলের স্ত্রী আখি আক্তার জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিকটশব্দে নিচতলার একটি কক্ষের নিচের সেপ্টিক ট্যাঙ্কটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ট্যাঙ্কের উপরের অংশ ভেঙে চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যায়। কক্ষের দেয়াল ও দরজা ভেঙ্গে যায়। বিষ্ফোরণের সময় ওই কক্ষে কেউ ছিল না। তারা গ্রামের বাড়িতে গেছেন।

নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাজমুল হোসেন বিপু জানান, বিস্ফোরণে আহত ৪ জনকে এখানে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে এক শিশু পথেই মারা যায়। আরেক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শিশু শাকিব ও সাঈদা বেগমের অবস্থা আশঙ্কজনক হওয়ায় তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ওই সেপ্টিক ট্যাঙ্কের ভেতরে জমে থাকা গ্যাস বের হওয়ার কোন ব্যবস্থা ছিল না। তাই ট্যাঙ্কের ভেতরে পযাপ্ত পরিমাণ হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস জমে এ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটেছে।