‘কঠিন বাউন্সারের পর সহজ স্লোয়ার’ বদলে দিয়েছে কোহলির ক্যারিয়ার

মিরর স্পোর্টস : অ্যাডিলেইডে শুরু হয়েছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি। দিবারাত্রির প্রথম টেস্টে টস জিতে ব্যাটিং করছে ভারত। এ সিরিজের উত্তেজনা এমনিতেই থাকে অনেক বেশি। এর জনপ্রিয়তা আরও বাড়াতে এবার সিরিজ শুরুর আগে দুই দলের সেরা দুই ব্যাটসম্যানকে একই মঞ্চে তুলেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

বুধবার সিরিজ শুরুর আগেরদিন একটি প্রশ্নোত্তরমূলক অনুষ্ঠানে আড্ডায় বসেন বিরাট কোহলি ও স্টিভেন স্মিথ। আগে থেকেই তৈরিকৃত প্রশ্নের উত্তর দেন দুজন। যেখানে উঠে আসে তাদের ক্যারিয়ারের নানান দিক। এর মধ্যে একটি ছিল কোহলির ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের ঘটনাও। যা সম্পর্কে বিশদ উত্তর দিয়েছেন ভারতীয় অধিনায়ক।

প্রশ্নের কার্ড তুলে স্মিথ বলেন, ‘কোন ম্যাচ বা ইনিংসে মনে হয়েছে যে আপনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার যোগ্য?’ প্রশ্নের উত্তরটি এক বাক্যে দেননি কোহলি। নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলো সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা দিয়ে নিয়ে যান সেই নির্দিষ্ট ইনিংসের দিকে। যেখানে কঠিন এক বাউন্সারের পর পেয়েছিলেন সহজ এক স্লোয়ার।

সেদিন ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন কোহলি এবং বিশ্বাস জন্মে বড় মঞ্চে ভালো করার। এ বিষয়ে কোহলি বলেন, ‘যতদূর মনে পড়ে, এটা আমার ক্যারিয়ারের একদম শুরুর দিকে। আমি প্রথম খেলেছি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, তাদের মাটিতে। তখনই আমি প্রথমবারের মতো ওপেনিং নেমেছিলাম। এর আগে কখনও ওপেনিং নামার অভিজ্ঞতা ছিল না আমার।’

‘এমনকি ম্যাচের আগেরদিনও জানতাম না যে আমি খেলব। ম্যাচের আগে ভিরেন্দর শেবাগ বাউন্ডারিতে ফিল্ডিং করতে গিয়ে গোড়ালিতে চোট পায়। তখন এমএস (ধোনি) তড়িঘড়ি এসে বলে, তুমি কি ওপেন করতে পারবে? আমি বলেছিলাম, আমি শুধু খেলতে চাই। এরপর পুরো পাঁচটা ম্যাচই খেলার সুযোগ পাই। খুব একটা খারাপ করিনি, তবে পূর্ণশক্তির দল ফেরত আসায় দল থেকে বাদ পড়ে যাই।’

‘এরপর ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আবার দলে জায়গা করে নেই আমি। যুবরাজ সিংয়ের আঙুল ভেঙে যাওয়ায় খেলার সুযোগ পাই। প্রথম ম্যাচ ছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। আমার মনে আছে, ১৬ রানের মাথায় শহীদ আফ্রিদিকে তার মাথার ওপর দিয়ে মারতে গিয়ে লংঅফে ক্যাচ আউট হই। পরে ম্যাচটিও হেরে যাই আমরা। সেদিন ভোর ৫টা পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি আমি, বারবার মনে হচ্ছিল, আমার সব সুযোগ শেষ!’

‘দুইদিন পর জোহানেসবার্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচ। পুরো তরতাজা পিচ এবং কেমার রোচ তখন মাত্রই দলে এসেছিল। আমার তখন মনে হয়েছে, এটাই আমার সুযোগ। কারণ এই ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলটা পূর্ণশক্তির নয়। আমি প্যাডআপ করে বসে ছিলাম। রোচের প্রথম বলটাই দেখলাম ১৫৩ কিমি. প্রতি ঘণ্টা ছিল গতিবেগ। তা দেখে আমার মনে হয়েছিল, এই পর্যায়ে আমি রান করব কীভাবে?’

‘এরপর আমি যখন নামি, প্রথম বলটাই সে করে বাউন্সার, আমার বাহুতে লাগে, খুব গতির ডেলিভারি ছিল। আমি জানি না, কী কারণে সে পরের বলটি স্লোয়ার করে বসে! সুযোগ পেয়ে আমি বাউন্ডারি মেরে দেই এবং অনেক চাপ সরে যায়। পরে আর খেলতে সমস্যা হয়নি। আমি সম্ভবত ৮০+ রানের ইনিংস (অপরাজিত ৭৯) খেলেছিলাম এবং প্রথমবার ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতি।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেদিন ৭৯ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পরই কোহলির মধ্যে বিশ্বাস ঢুকে যায়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করার ব্যাপারে। তার ভাষ্য, ‘সেই ইনিংসের পরই আমার মনে হয়েছে, যদি আমি এটা ধারাবাহিকভাবে করতে পারি, তাহলে লম্বা সময় এই পর্যায়ের ক্রিকেট খেলতে পারব।’