কৃষি ব্যাংকে ঝাড়ুতে বেঁধে পতাকা উত্তোলন!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : বিজয় দিবসে কৃষি ব্যাংক টাঙ্গাইলের বাসাইল শাখায় ঝাড়ুতে বেঁধে পতাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পরে বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) দুপুরে কৃষি ব্যাংকের সিকিউরিটি অভিযুক্ত সুলতান আহমেদকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ দিনের জেল দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, কৃষি ব্যাংক বাসাইল শাখার টপ সিকিউরিটি সুলতান আহমেদ মহান বিজয় দিবসের প্রথম প্রহরে ঝাড়ুর মধ্যে জাতীয় পতাকা বেঁধে ভবনটির ছাদে উত্তোলন করে। এরপর বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। মুহূর্তের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা বাসাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ব্যাংকের সামনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিষয়টি ব্যাংকের ম্যানেজার ছানোয়ার হোসেনকে জানানো হয়। তবে তিনি তাতে কোনও কর্ণপাত করেননি। একপর্যায়ে দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মেয়র মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিম আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মতিয়ার রহমান গাউস ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম ওই পতাকা নামিয়ে ফেলেন।

খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান নুরেন ও বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পরে সিকিউরিটিম্যান সুলতান আহমেদকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১০ দিনের জেল দেওয়া হয়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম বলেন, ব্যাংক কর্মচারী ঝাড়ুতে পতাকা বেঁধে উত্তোলন করে। পরে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। একপর্যায়ে আমরা নিজেরাই গিয়ে পতাকাটি নামিয়ে ফেলি। এটি একটি অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ। তারা জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করেছে। আমরা এমন কাজের যথাযথ বিচার দাবি করছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজী মতিয়ার রহমান গাউস বলেন, কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঝাড়ুর মধ্যে জাতীয় পতাকা বেঁধে এলোমেলো করে রেখে দেয়। পরে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। একপর্যায়ে পতাকাটি পুলিশের উপস্থিতিতে খুলে ফেলা হয়। ৩০ লাখ শহীদের রক্তেভেজা এই পতাকার এমন অপমান হলে ভবিষ্যতে পতাকা, স্বাধীনতার কোনও মূল্য থাকবে না। এ ঘটনায় কৃষি ব্যাংক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। এ ঘটনায় কৃষি ব্যাংকে কর্মরত গার্ডকে আইন অনুসারে ১০ দিনের জেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ব্যাংকে কর্মরত অন্য সব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চিঠি পাঠানো হবে।