চীনে কয়লা রপ্তানি বন্ধের খবরে চিন্তায় অস্ট্রেলিয়া

মিরর ডেস্ক : চীন ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি খবর বেরিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে চীন। এ নিয়ে নতুন করে চিন্তায় পড়েছে অস্ট্রেলীয় সরকার।

গত সপ্তাহে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সাময়িকী গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চীনা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে বিদেশ থেকে বিনা বাধায় কয়লা আমদানির অনুমতি দিয়েছে দেশটির জাতীয় উন্নয়ন ও সংস্কার কমিশন, সেখানে নাম নেই শুধু অস্ট্রেলিয়ার।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার অস্ট্রেলীয় বাণিজ্যমন্ত্রী সাইমন বার্মিংহামকে প্রশ্ন করলে জানান, তিনি চীনা গণমাধ্যমের ওই খবরে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

অস্ট্রেলিয়ার এ মন্ত্রী বলেন, খবরটি যদি সত্য হয়, তবে তা চীনা কর্তৃপক্ষের বৈষম্যমূলক বাণিজ্যনীতি নির্দেশ করবে।

চীন ইতোমধ্যেই বেশ কিছু অস্ট্রেলীয় পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বা চড়া শুল্ক আরোপ করেছে।

সিএনএন জানিয়েছে, অস্ট্রেলীয় কয়লা আমদানি নিষিদ্ধের খবরের বিষয়ে চীনের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইলে তারা ‘সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।

তবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াং ওয়েনবিন স্বীকার করেছেন, চীনা কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি কিছু অস্ট্রেলীয় পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে আইন মেনে ব্যবস্থা নিয়েছে।

এদিকে, চীন অস্ট্রেলীয় কয়লা আমদানি নিষিদ্ধ করছে- এমন খবরের বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বলেছেন, তার সরকার খবরটির সত্যতা যাচাই করছে। তবে তারা এখনও চীন সরকারের কাছ থেকে এ ধরনের কোনও খবর পাননি।

মরিসন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চীন অস্ট্রেলিয়ার কয়লা আমদানি বন্ধ করলে তা দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য খুবই খারাপ হবে।

গত এপ্রিলে চীন-অস্ট্রেলিয়ার এই বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রীর এক ঘোষণার জেরেই। তিনি সেসময় করোনাভাইরাসের উৎস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তখন এর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় বেইজিং।

এরপর গত কয়েক মাসে ধাপে ধাপে অস্ট্রেলিয়ার বেশ কিছু পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা বা চড়া শুল্ক আরোপ করেছে চীন। সম্প্রতি অস্ট্রেলীয় ওয়াইনের ওপর ২০০ শতাংশের বেশি শুল্প আরোপ করেছে তারা। কড়াকড়ি দেয়া হয়েছে গরুর মাংস ও যব আমদানিতেও।

অবশ্য অস্ট্রেলীয় প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, তারা চীনের চেয়ে জাপানে বেশি কয়লা পাঠান। অস্ট্রেলিয়া প্রতিবছর ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের কয়লা রপ্তানি করে চীনে। সেখানে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদেশে তাদের মোট কয়লা রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫০ কোটি ডলার।

কিন্তু চীন অস্ট্রেলীয় কয়লা আমদানি সত্যিই নিষিদ্ধ করলে তা অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতির ওপর বড় আঘাতই হবে। অস্ট্রেলীয় গণমাধ্যমের দাবি, চীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই তাদের উপকূলে শত শত কোটি ডলারের অস্ট্রেলীয় কয়লা আটকে রেখেছে, যেন অস্ট্রেলিয়ার খনি শিল্পের ওপর চাপ তৈরি হয়।

এছাড়া, চীনে কয়লা রপ্তানি বন্ধ হওয়ার খবর ছড়াতেই ধস নেমেছে অস্ট্রেলীয় কয়লা কোম্পানিগুলোর শেয়ারে। মঙ্গলবার সিডনিতে করোনাডো গ্লোবাল ও ইয়ানকোয়াল অস্ট্রেলিয়া উভয়ের শেয়ারের দর কমেছে ৮ শতাংশের বেশি। দেশটির আরেক কয়লা উৎপাদক হোয়াইটহ্যাভেন কোয়ালের শেয়ারের দর কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ, আর গোটা সপ্তাহের হিসাব করলে তা ডুবেছে ১০ শতাংশের বেশি।

সূত্র: সিএনএন