বীর মুক্তিযোদ্ধার ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদের দাবীতে জেলা প্রশাসক বরাবর স্বারকলিপি

দিনাজপুর : ভাড়াটিয়া মোরশেদ আলমের খুঁটির জোরে লাঞ্ছিত ও অপদস্ত হয়ে পথে পথে ঘুরছে এক বীর মুক্তিযোদ্ধা। মহান বিজয়ের এই মাসে এ অবস্থা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। স্বাধীন দেশের একজন নাগরিক হিসেবে চোখের সামনে বীর মুক্তিযোদ্ধার এমন অসহায় পরিণতি দেখেও প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে না, এটা হতে পারে না। অবিলম্বে মোরশেদ আলম গংদের বীর মুক্তিযোদ্ধার জায়গা থেকে উচ্ছেদ পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবী জানাচ্ছি।

(১৫ ডিসেম্বর) সকালে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে নয়নপুর এলাকাবাসী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। এতে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুল লতিফ। মানববন্ধন শেষে আব্দুল লতিফসহ স্থানীয়রা দিনাজপুর জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপি গ্রহণ করেন তাঁর ব্যাক্তিগত সহকারী।

স্মারকলিপিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ উল্লেখ করেন, মোরশেদ নামীয় কুখ্যাত ব্যক্তিকে গত ২০১৭ সালের মার্চ মাসে আমার স্ত্রীর নামীয় বাড়ীতে বসবাসের জন্য ভাড়টিয়া হিসেবে অবস্থান করতে দেই। পরবর্তীতে ওই বাড়ী তথা বিশেষায়িত কোল্ড স্টোরেজটি রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক, দিনাজপুর শাখায় রেজিঃ বন্ধক রেখে আমার স্ত্রী ও জেষ্ঠ্য পুত্রের নামে ঋণ গ্রহণ করা হয়। ঋণ পরিশোধ করতে না পারার কারনে ব্যাংক আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে সুদ মওকুফ বাদে পরিশোধযোগ্য অর্থ জমাদানের জন্য সর্বশেষ সময় বেঁধে দেয়। আমি উক্ত বাড়ীটি বিক্রয় করে ব্যাংকের টাকা পরিশোধে সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাড়াটিয়া মোরশেদ আলমকে বাড়ী ছেড়ে দেয়ার জন্য বিগত ৬ মাস যাবৎ অনেক অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি শুধুমাত্র গায়ের জোরে সন্ত্রাসী কায়দায় আইন বহির্ভূত ও অন্যায়ভাবে বাড়ীটি দখল করে রেখেছে। ফলে আমি সেটি বিক্রিও করতে পারছি না।

এমতাবস্থায় আমি স্পষ্ট বিরাট আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হতে যাচ্ছি। বিধায় এ অবস্থা থেকে উত্তোরনে এবং আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে ওই কুখ্যাত ভাড়াটিয়া মোরশেদ আলমকে বাড়ী থেকে উচ্ছেদের কোন বিকল্প নেই। সব রকম চেষ্টা করেও কোন ফল না পাওয়ায় এলাকাবাসীর উৎসাহে আজ আমি পথে নেমেছি। এক বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রের কাছে সহযোগিতা চাই। এমন কুখ্যাত ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে আজকের এ মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান। জেলার সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে জেলা প্রশাসক এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা দিবেন এটাই প্রত্যাশা।