বিজয়ের মাসে বঙ্গবন্ধুর উপর আঘাত হানার চেষ্টা চলছে -নৌ প্রতিমন্ত্রী

বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্যই আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জন করে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র পেয়েছি। সেই বিজয়ের মাসেই বঙ্গবন্ধুর উপর আঘাত হানার চেষ্টা করা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার চেষ্ঠা করা হচ্ছে। স্বাধীনতা বিরোধী গোষ্ঠীর এই অপচেষ্টা বাংলার মাটিতে কখনই সম্ভব হবে না।

আজ (১৪ ডিসেম্বর) সোমবার সকালে দিনাজপুরের বিরল উপজেলা মুক্ত দিবস ও শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বঙ্গবন্ধুকে কেউ মুছে ফেলতে পারেনি মন্তব্য করে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর খুনি মোস্তাকরা ভেবেছিল এ বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারিত হবে না। তারা মনে করেছিল, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এ বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস কেউ জানবে না। মানুষের মন থেকে ২৩ বছরের লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস মুছে যাবে। কিন্তু; তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারেনি। স্বাধীনতার সেই ইতিহাসকে মুছে ফেলতে পারেনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া অনেক চেষ্টা করেছে, বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের রাজনীতিতে আনার চেষ্টা করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনি স্বাধীনতাবিরোধীদের এমপি বানানো হয়েছে, মন্ত্রী বানানো হয়েছে। কোনো লাভ হয়নি। আজকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী শুধু জাতীয় ভাবে না; আন্তর্জাতিকভাবে পালিত হচ্ছে। আজকে জাতিসংঘের সংস্থা ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর নামে পুরস্কার দিচ্ছে। জাতি হিসেবে এর থেকে গর্ব আর অহংকারের কী হতে পারে! স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করে দিতেই বিজয়ের প্রাক্কালে দেশীয় আলবদরদের সহয়োগিতায় দেশের প্রথিতযশা বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত বিরল উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাবের মোঃ সোয়াইবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিরল পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব সবুজার সিদ্দিক সাগর ও সাধারন সম্পাদক রমাকান্ত রায়, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক উপজেলা কমান্ডার আবুল কাশেম অরু প্রমুখ। এর আগে বঙ্গবন্ধু স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামীলীগসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ করা হয়।