পঞ্চগড়ের বাগান ভরে গেছে কাঁচা-পাকা মাল্টায়

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে দিন দিন বাড়ছে মালটা চাষ। অধিক লাভ এবং খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু হওয়ায় চাষিদের আগ্রহ বাড়ছে মাল্টা চাষে। সাইট্রাস উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পুষ্টির চাহিদা মেটানো ও কৃষকের আয় বৃদ্ধির জন্য নতুন মাত্রায় যুক্ত হয়েছে এই রসালো ফলের চাষাবাদ। মৌসুমী ফল আম কাঠালের পাশাপশি মাল্টা বৃক্ষ এখন শোভা পাচ্ছে বসতবাড়িতে। এছাড়াও ক্ষুদ্র আকারে গড়ে উঠেছে অনেক মাল্টা বাগান। এসব মাল্টা বাগান এখন কাঁচা-পাকা মাল্টায় ভরে গেছে।

এই জেলার মাটি এবং আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য উপযোগী। এ বছর মাল্টা চাষে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন এই জেলার মাল্টাচাষিরা। গত এক দশকে এ জেলায় গড়ে উঠেছে অনেক মাল্টা বাগান। চলতি বছর জেলায় প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে মাল্টা এবং কমলালেবু চাষ করা হয়েছে। এসব মাল্টা বাগানে ফল এসেছে প্রচুর। রসালো এসব মাল্টা আকার এবং স্বাদে যে অন্যদেশ থেকে আমদানীকৃত মাল্টার চেয়েও মানসম্মত।

এলাকায় মাল্টার চাহিদার বিরাট অংশপূরণ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হচ্ছে। বর্তমানে পঞ্চগড় দেশের মাল্টা উৎপাদনের অন্যতম অঞ্চল। বাগান আকারে মাল্টা চাষ করে অনেকেই সফল ও আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন। বোদা উপজেলার বলরাম হাট এলাকার মাল্টা চাষি রিপন হোসেন জানান, গত তিন বছর আগে ২০ শতক জমিতে তিনি ৬৮টি মাল্টা গাছ লাগান। বর্তমানে এই বাগান থেকে প্রতিবছর দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করছেন। তিনি জানান প্রতিমন মালটা ৪ হাজার টাকায় বিক্রি করছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সাইট্রাস উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পুষ্টির চাহিদা মেটানো ও কৃষকের আয় বৃদ্ধির জন্য বারি-১ মাল্টা চাষে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে তদারকি, বিনা মূল্যে চারা বিতরণের মাধ্যমে মাল্টা চাষে উৎসাহিত করছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। এই পদক্ষেপের ফলে জেলায় ছোট বড় অনেক মাল্টা বাগান গড়ে উঠেছে। সদর উপজেলার মডেল হাট এলাকার আতাউল্লাহ আলম জানান, বাড়ির আশে পাশে মাল্টা লাগিয়েছি। প্রতিবছর অনেক মাল্টা হয়। পরিবারের সকলেই প্রচুর মালটা খেতে পারি। তারপর আশে পাশের বাজারে বিক্রিও করি। এ বছর একটি বাগান করার উদ্যোগ নিয়েছি।

পঞ্চগড় প্রজনন বীজ উৎপাদন কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ কে এম খোরশেদ আলম জানান, এই জেলার মাটি মাল্টা চাষে অত্যন্ত উপযোগি। বর্তমানে মাল্টা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। অনেকে বাড়ির আশে পাশে আবার অনেকে বাগান আকাওে মাল্টা চাষ করছেন। আমরা মালটা চাষিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। সরকারের উদ্যোগে চাষিদের বিনামূল্যে চারাও সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন মাল্টা চাষে সরকারি পৃষ্টপোষকতা বাড়ানো হলে পঞ্চগড়ে অর্থকরী ফসল হিসেবে মাল্টা বিশেষ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি এবং সাইট্রিক এসিড থাকায় করোনাকালীন সময় এটি সুস্বাস্থ্য রক্ষায় অনবদ্য ভূমিকা রাখতে পারে।