বৈশ্বিক জলবায়ু জোট

জলবায়ু পরিবর্তনের সমূহ ঝুঁকি মোকাবেলায় বৈশ্বিক এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতে ইউএনএফসিসিসি সবচেয়ে উপযুক্ত একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে। প্যারিস চুক্তির ৫ম বার্ষিকী উপলক্ষে ভুটানের রাজধানী ‘থিম্পু এ্যাম্বিশন সামিট’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে ভবিষ্যত প্রজন্ম ও ধরিত্রীকে বাঁচাতে শক্তিশালী বৈশ্বিক জলবায়ু জোট গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। শতাব্দীর মধ্যভাগের আগে কার্বন নিঃসরণ কার্যকরভাবে হ্রাস অর্থাৎ, ১ দশমিক ৫ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বিশ্ব গড়ে তোলা ত্বরান্বিত করার জন্য তহবিল বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণে উন্নত দেশগুলোর বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের সুরক্ষাসহ স্থানান্তর করতে বৈশ্বিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের প্রস্তাব করেছেন। করোনা মহামারীর উদাহরণ টেনে তিনি বলেছেন, এটি আমাদের দেখিয়েছে সম্মিলিত জোরালো উদ্যোগই বিশ্বব্যাপী সঙ্কট মোকাবেলার একমাত্র উপায়।

ইতোপূর্বে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৫-এ যোগদান করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে যা বলেছেন জোরালো কণ্ঠে, তাও সবিশেষ প্রণিধানযোগ্য। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বিশ্বের জন্য একটি কঠিন বাস্তবতা। এটি মানবজাতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ সর্বোপরি বিদ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিরোধে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে যথাযথ প্রস্তুতি গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে পৃথিবী বসবাসযোগ্য থাকবে না। মানবজাতি সমূহ ধ্বংসের মুখোমুখি হবে। আর সেটি যদি অনিবার্য হয় তা হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। সেই অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি বিবেচনায় এখন আর পেছনে ফেরার সুযোগ নেই। যা করার সে সবই করতে হবে জরুরী ভিত্তিতে। প্রকৃতপক্ষে এই সত্য ও সাহসী উচ্চারণের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সুইডেনের ১৮ বছর বয়সী কিশোরী গ্রেটা থুনর্বেগের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরই তুলে ধরেছেন বিশ্ববাসীর সামনে। উল্লেখ্য, গ্রেটা ২০১৮ সালের আগস্টে প্রথম এককভাবে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দের অবহেলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ ও অবরোধের ডাক দেন। একই বছর ডিসেম্বরে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের পর এই আন্দোলন আরও বেগবান হয় এবং ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশসহ ১১২টি দেশের ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন শিক্ষার্থী গ্রেটার ডাকে সাড়া দিয়ে অংশগ্রহণ করে জলবায়ু কর্মসূচীর বিক্ষোভে। দুঃখজনক হলো, এর পরও বিন্দুমাত্র টনক নড়েনি কারও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেবারও সম্মেলন বয়কট করেছেন। বৈশ্বিক জলবায়ু তহবিলে অর্থ দিতেও অস্বীকার করেছেন তিনি। অনেকটা এই প্রেক্ষাপটেই প্রধানমন্ত্রীর এই সতর্কবার্তা বিশ্ববাসীর প্রতি। সার্বিকভাবে চুক্তিটিতে জলবায়ু তহবিলে অর্থায়নের বিষয়টি অস্পষ্ট এবং কিছু বিষয় দুর্বলভাবে উপস্থাপিত হলেও বিশ্বব্যাপী ব্যাপক জনমত ও সচেতনতা সৃষ্টিতে এর ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিশ্বের ক্ষমতাধর ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রপ্রধানদের বোধোদয়সহ দায়িত্বশীল ভূমিকা এক্ষেত্রে অবশ্যই প্রত্যাশিত। তা না হলে ভবিষ্যত প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না কোনদিন।