‘ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে’ ফাইজার ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিল এফডিএ

মিরর ডেস্ক : করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দেশটিতে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। খবর বিবিসির।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ফাইজারের ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিতে গত কয়েকদিন থেকেই ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে ব্যাপক চাপের মুখে ছিল এফডিএ। সংস্থাটির প্রধান স্টিফেন হানকে এর অনুমোদন দিতে নাহয় পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছিল।

এফডিএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার একটি মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ প্যানেল তাদের কাছে ফাইজার ভ্যাকসিন অনুমোদন দেয়ার সুপারিশ করেছেন। ২৩ সদস্যের প্যানেলে বেশিরভাগই ভ্যাকসিনটির ঝুঁকির চেয়ে উপকারিতা বেশি বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন।

সংস্থাটি বলেছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে ইতিবাচক ফলাফলের পর স্পনসরদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, এটি জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের অনুমোদন চূড়ান্ত করা এবং সেটি কার্যকরের বিষয়ে দ্রুত কাজ করবে এফডিএ।

সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি শুরুর জন্য মার্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) এবং অপারেশন র‌্যাপ স্পিডকে (সরকারের ভ্যাকসিন বিতরণ কর্মসূচি) ভ্যাকসিন অনুমোদনের বিষয়টি জানিয়ে দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে এফডিএ।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স আজার শুক্রবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, আগামী সোম অথবা মঙ্গলবার থেকে তার মন্ত্রণালয় ফাইজারের সঙ্গে যৌথভাবে গণ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আগে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট ফাইজার এবং জার্মান বায়োটেকনোলজি কোম্পানি বায়োএনটেকের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, বাহরাইন ও সৌদি আরব।

চাপে ছিল এফডিএ?
গত শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক টুইটে প্রচণ্ড ক্ষোভের সঙ্গে এফডিএ’কে ‘বড়, বৃদ্ধ, ধীরগতির কচ্ছপ’ বলে মন্তব্য করেন।

এফডিএ প্রধানকে তাড়া দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিনগুলো এখনই বের করুন, ডা. হান। খেলা বন্ধ আর জীবন বাঁচানো শুরু করুন।’

এছাড়া, প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট দাবি করেছে, হোয়াইট হাউসের চিফ অব স্টাফ মার্ক মিডোস এফডিএ কমিশনার ডা. হানকে শুক্রবার ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিতে নাহয় তার পদত্যাগপত্র জমা দিতে বলেছেন।

তবে স্টিফেন হান বলেছেন, ভ্যাকসিনের বিষয়ে তাকে শুধু দ্রুততার সঙ্গে কাজ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। চিফ অব স্টাফের কাছ থেকে ফোনকল পাওয়ার খবরকে তিনি অসত্য বলে উল্লেখ করেছেন।