১১ ডিসেম্বর দিনাজপুরের হাকিমপুর শত্রুমুক্ত হয়

হাকিমপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : আজ ১১ ডিসেম্বর। ‘৭১ এর এই দিনে হানাদারমুক্ত হয় দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি)। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাক-হানাদারমুক্ত হওয়ায় বাঁধভাঙা উল্লাসে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিতে দিতে রাস্তায় নেমে আসেন এলাকার মানুষ। দিনটি উপলক্ষে দিনভর নানা আয়োজন চলে।

আজকের দিনে দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলি শত্রুমুক্ত হয়। দেশের সর্ববৃহৎ সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল হিলির মুহাড়াপাড়া এলাকায়। যুদ্ধ চলাকালীন এখানে প্রায় ৭ হাজার পাকসেনা নিহত হন। শহীদ হন এক হাজার ৩শ’ জন মুক্তিযোদ্ধা এবং মিত্র বাহিনীর ৩৪৫ জন সদস্য। আহত হন আরও অনেকে। প্রচণ্ড যুদ্ধের পর ১১ ডিসেম্বর ৭ নম্বর সেক্টরের আওতায় থাকা হিলি শত্রুমুক্ত হয়।

হাকিমপুর উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার লিয়াকত আলী জানান, পাক-হানাদারেরা হিলি থেকে তিন মাইল পূর্বে ছাতনী গ্রামে শক্ত ঘাটি প্রতিষ্ঠা করে। বিভিন্ন দিকে ক্যাম্প গঠনের মাধ্যমে ভারী অস্ত্রেসজ্জিত হয়ে অবস্থান গ্রহণ করে এবং মুহাড়া পাড়ায় তারা একটি গভীর খাল কেটে বেশ কয়েকটি বাংকার তৈরি করে। ৬-৭ হাজার পাক সেনা ৪০টি ট্যাংক নিয়ে সেখানে অবস্থান করতে থাকে। ভারত ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকারকে সমর্থন দানের পর হিলিতে ভারত-বাংলাদেশ মিত্র বাহিনীর সঙ্গে পাক সেনাদের প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম দিকে হিলির মুহাড়াপাড়া এলাকায় মুক্তিযোদ্ধাসহ মিত্র বাহিনী ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হয়। এ সময় তরুণ মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা শহীদ হন। পরে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা সুসংঘঠিত হয়ে ১০ ডিসেম্বর মুহাড়াপাড়া এলাকাসহ পাক সেনাদের বিভিন্ন আস্তানায় আকাশ ও স্থল পথে একসঙ্গে হামলা চালায়। দুই দিন প্রচণ্ড যুদ্ধের পর পাক-হানাদার বাহিনী পরাজিত হলে ১১ ডিসেম্বর দুপুর ১টার দিকে মুক্তিযুদ্ধের ৭ নম্বর সেক্টরের আওতায় দিনাজপুরের হিলি শত্রুমুক্ত হয়।

শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা অর্পণ, এরপর আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে হিলি শত্রুমুক্ত দিবস। সকাল ১০টায় হিলির মুহারাপাড়াস্থ সম্মুখ সমরের শহীদ বেদিতে প্রথমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।