২৬ মার্চ ঢাকা-শিলিগুড়ি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু: রেলমন্ত্রী

নীলফামারী প্রতিনিধি : বর্তমান সরকার রেল যোগাযোগ ও সেবার মান উন্নয়নে কাজ আন্তরিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর যে দেশ যত উন্নত, সে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা তত উন্নত। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর ভারতের সঙ্গে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। দেশ স্বাধীনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ২৬ মার্চ ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাত্রীবাহী রেল চলাচল শুরু হবে।’

বৃহস্পতিবার (১০ ডিসেম্বর) দুপরের দিকে বাংলাদেশের চিলাহাটি হতে ভারতের হলদিবাড়ী রুটে রেল যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনের প্রস্ততি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রেলমন্ত্রী বলেন, ১৭ ডিসেম্বর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারন্সের মাধ্যমে মালবাহী ট্রেনের উদ্বোধন করবেন। ১৯৭৩-৭৫ সাল পর্যন্ত রেললাইন ছিল তিন হাজার কিলোমিটার আর সড়ক ছিল সাড়ে ৩ হাজার কিলোমিটার। ১৯৯১-৯২ সালে বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় এসে লোকবলসহ রেলপথকে ধ্বংস করেছে। তিনি বলেন ১০৭টি রেলস্টেশন বন্ধ হয়েছে। তারা রেল লাইন তুলে সড়ক তৈরি করেছে। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় এক সময় ৬৮ হাজার লোক কাজ করতো। আর এখন সেখানে এক হাজার ৪০০ কর্মচারী কাজ করছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর রেলকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন। প্রত্যেক জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। খুলনা থেকে মোংলা পোর্ট পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, রেল মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব আতিকুর রহমান, অতিরিক্ত মহাসচিব (অপারেশন) সরকার সাহদাত আলী, জেনারেল ম্যানেজার মিহির কান্তিু গুহ, নীলফামারী-১ (ডোমার ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য আফতাব উদ্দিন, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেল, সংরক্ষিত আসনের সদস্য রাবেয়া আলিম, জেলা পরিসদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, নীলফামারী পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, পুলিশ সুপার মো. মোখলেছুর রহমান, সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর কবীর, ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম, ৫৬ বিজিবির লে. কর্নেল মো. মামুনুল হক প্রমুখ।

উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান-ভারত বিভক্তের পরও দুই দেশের যাত্রী ও মালবাহী রেল চলাচল স্বাভাবিক ছিল। এরপর ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের পর রেলপথটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফরে গিয়ে রেলপথটি চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
বাংলাদেশের রেলপথটি চালু করতে মোট ব্যয় হয়েছে, ৮০ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এই প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে চিলাহাটি থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ ও ২ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার লুপ লাইন নির্মাণসহ অন্যান্য অবকাঠামোগ ব্যয়। গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটি রেলস্টেশন চত্ত্বরে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রেলপথ মন্ত্রী।