বাইডেন পুত্রের বিরুদ্ধে কর ‘ফাঁকির’ অভিযোগ

মিরর ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেনের বিরুদ্ধে আয়কর ফাকির অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে এ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় অ্যাটর্নির দফতর।

ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা বিবিসির বরাতে জানা যায়,বাইডেন-পুত্র বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি আয়কর সংক্রান্ত বিষয়গুলো পেশাদার কর পরামর্শকের মাধ্যমে যথাযথভাবে সম্পন্ন করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গতকাল জানলাম যে, মার্কিন অ্যাটর্নির অফিস আমার আয়কর নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। আমি এই ঘটনাটাকে খুবই গুরুত্ব দিচ্ছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে, এই ব্যাপারে পেশাদার ও বস্তুনিষ্ঠ পর্যালোচনা হবে।

আর টিম বাইডেনের তরফে আরেকটি বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, ‘জো বাইডেন তাঁর ছেলেকে নিয়ে খুবই গর্বিত। গত কয়েক মাসে হান্টারের বিরুদ্ধে বিষাক্ত রাজনৈতিক আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু তিনি সেই চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। এই আক্রমণ তাঁকে আরো বলিষ্ঠ করেছে।’ অর্থাৎ, নাম না করেই ট্রাম্পের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প নিয়মিতভাবে বাইডেনের ছেলের বিরুদ্ধে কর ফাঁকির অভিযোগ করেছেন।

তবে এই তদন্তের নির্দেশ বাইডেনের কাছে অস্বস্তির কারণ। কারণ, তিনি এখন তাঁর মন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করছেন। কিছুদিনের মধ্যে পরবর্তী অ্যাটর্নি জেনারেলের নামও ঘোষণা করবেন। তখন তিনিই তদন্ত সামলাবেন। আগামী ২০ জানুয়ারি বাইডেন প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নেবেন। তার আগে তদন্ত শেষ হলে ভালো। না হলে তাঁর সামনে তদন্ত-কাঁটা থাকবে।

এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-২০২০ এর প্রচারণায় রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বাইডেনপুত্রের কর ফাঁকির বিষয়টি বারবার উল্লেখ করেছিলেন। ট্রাম্পের তোলা ওই অভিযোগের ভিত্তিতে যদি বাইডেন পরিবারের কিছুটা ইমেজ সংকট সৃষ্টি করা যায় এ রকম উদ্দেশ্য থেকে আয়কর তদন্ত শুরু হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের অভিযোগ ছিল, বাইডেন যখন ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, তখন বিদেশে ব্যবসা বাড়ানোর জন্য তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়েছিলেন হান্টার। বাইডেন-পুত্র ২০১৪ সালে ইউক্রেনের এনার্জি কোম্পানির বোর্ড সদস্য হন। তখনই বাইডেনের বিরুদ্ধে স্বার্থের সংঘাতের অভিযোগ ওঠে।