গন শুনানীতে কৃষকদের দাবী : বীজ সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর : দেশের উত্তরাঞ্চলের অবহেলিত দারিদ্র পীড়িত কৃষি নির্ভর মানুষগুলো বীজ সংকটের স্থায়ী সমাধানসহ কৃষি উপকরন সহজলভ্য এবং সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবী জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টায় দিনাজপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে খাদ্য নিরাপত্তা নেটওর্য়াক-এর উদ্যোগে কৃষক শুনানীতে এ দাবী জানানো হয়।

কৃষক নেতা বদিউজ্জামান বাদলের সভাপতিত্বে কৃষক শুনানীতে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক সংহতির সাধারন সম্পাদক শরীফুজ্জান শরিফ, জাসদ নেতা সহিদুল ইসলাম, আকতার আজিজ, এড. মেহেরুল ইসলাম, হবিবর রহমান, দয়ারাম রায়, রাসেল শাহীন প্রমুখ। এছাড়াও দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা হতে আগত কৃষক জাকির হোসেন, আশরাফ আলী, ইমরান হোসেন, আহসান হাবীব, রুহুল আমিন, কৃষানী সবিতা রায় ও রুবিনা আকতার আলোচনায় অংশ নেন।

শুনানীতে কৃষক জাকির হোসেন বলেন চলতি মৌসুমে আলু বীজ সংকটে পড়ে এ অঞ্চলের আলু চাষীরা। নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বিএডিসি থেকে বেশী দামে বীজ কিনতে হয়েছে তাদের। বরাবরই মানসম্মত বীজ বাজারে পাওয়া যায় না। তারা আরো বলেন, বিএডিসি কৃষকের চেয়ে ডিলারের স্বার্থকেই প্রধান্য দেয় বেশী। একজন কৃষকের চাহিদার দশভাগের একভাগ বীজ পাচ্ছেন। কিন্তু ডিলার থেকে বীজ কিনতে গিয়ে কেজি প্রতি ৩০ টাকা বেশী গুনতে হচ্ছে তাদের।

কৃষানী সবিতা রায় বলেন, কৃষিপণ্য আস্তে আস্তে বহুজাতিক বীজ ব্যবসায়ীদের হাতে চলে যাচ্ছে। এতে করে কৃষক জিম্মি হচ্ছে। ভেজাল বীজ বিক্রি হচ্ছে কিন্তু কৃষক প্রতিকার পাচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চলে সবজির দাম নেই। মাঠে একটি ফুলকপি ২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে কিন্তু সেই কপি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৫টাকায়।

কৃষক রুহুল আমিন অভিযোগ করে বলেন, আগে কৃষক নিজেরাই বীজ সংরক্ষন করতো। এখন মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানীগুলো সরকারের ঘরে বীজ সরবরাহ করে। এতে করে বীজের মান ঠিক থাকে না। গণশুনানীতে কৃষকরা সরকারের কাছে বীজ সংকটের স্থায়ী সমাধান চান। এছাড়াও বক্তারা বীজ বিতরনে অনিয়ম বন্ধ, বীজ সংরক্ষনে হিমাগার, কৃষক আদালত গঠন, কৃষকদের বীজের চাহিদার তথ্য আগে থেকেই সংগ্রহসহ আরো সুনিদিষ্ট কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।