অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় চ্যালেঞ্জ অনেক

অর্থনীতি রিপোর্ট : সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যে সমস্যাগুলো ছিল, তা এখনো বিদ্যমান। এর মধ্যেই আমরা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য নির্ধারণ করছি। এ ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ অনেক। দেশে বিনিয়োগ পরিস্থিতি স্থবির। রাজস্ব আয় নেই। প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, কিন্তু তা কর্মসংস্থানহীন। অর্থনীতিকে আবার আগের জায়গায় ফিরিয়ে নিতে হলে এসব সমস্যা সমাধান করতে হবে। এসব তথ্য উঠে এসেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণায়।

গতকাল মঙ্গলবার সিপিডির আয়োজনে ‘কভিড-১৯ চ্যালেঞ্জ এবং স্থিতিশীল এলডিজি গ্র্যাজুয়েশন’ শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারাও একই সুরে কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. ফাহমিদা খাতুন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মূল প্রবন্ধে ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘কভিড থেকে মুক্তি পেতে আমাদের অনেক সময় ব্যয় করতে হবে। রাজস্ব আহরণের টার্গেট পূরণ হয়নি। রাজস্ব আহরণের জায়গাটি আমাদের অর্থনীতির অন্যতম দুর্বলতম জায়গা। অর্থনীতি অনেক উন্নত হয়েছে। প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। কিন্তু টার্গেট পূরণ হচ্ছে না। অষ্টম পঞ্চমবার্ষিক পরিকল্পনায় ১৪ শতাংশ রাজস্ব বাড়ার যে পরিকল্পনা বা টার্গেট দেওয়া হয়েছে এটা অনেকটা রক্ষণশীল। সরকারি ব্যয়ে অনেক ক্ষেত্রে লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে অনেক প্রভাব পড়ে। এতে চাঙ্গা ভাব ফিরে আসবে না অর্থনীতিতে, কর্মসংস্থানে সমস্যা সৃষ্টি হয়। তাই অষ্টম পঞ্চমবার্ষিকীতে চ্যালেঞ্জ অনেক।’

ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর অর্থনীতি এখনো আগের জায়গায় ফিরতে পারেনি। বরং বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, দেশে দরিদ্রতা বেড়েছে, বৈষম্য বেড়েছে। পুরুষের তুলনায় নারীদের ওপর আঘাত বেড়েছে। তাই আমাদের চ্যালেঞ্জ আছে অনেক। করোনা মহামারি থেকে মুক্ত হওয়াও একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দুই বছরের মধ্যে সবাইকে ভ্যাকসিন দেওয়া আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী থেকে প্রত্যাশা থাকবে অনেক। অর্থনীতিকে আবার আগের মতো সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

প্রণোদনা প্যাকেজ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বড় শিল্পের ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হয়েছে বেশি। সে তুলনায় সিএসএমই খাতে প্রণোদনা প্যাকেজের বাস্তবায়নে ধীরগতি, দুর্নীতি লক্ষ করা যাচ্ছে। এগুলো দূর করতে হবে।’

এমসিসিআই প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার নিহাদ কবির বলেন, ‘দেশ ভালো না থাকলে, দেশের মানুষ ভালো না থাকলে ব্যবসায়ীরা ভালো থাকেন না। করোনার আগে দেশের অর্থনীতি যেখানে ছিল, সেখানে ফিরে যেতে আরো দুই-তিন বছর সময় লাগবে। এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।’ পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিকীর চ্যালেঞ্জ সব জানা। এগুলো বহু পুরনো, চিহ্নিত। কিন্তু তা ঠিক করা হয় না। বিনিয়োগ একই জায়গায় স্থবির। কিন্তু প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। দেশে কর্মসংস্থান নেই। আমরা কর্মসংস্থানহীন প্রবৃদ্ধি অর্জন করছি।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমাদের এখনো অনেক কাজ বাকি আছে। প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা থেকে আমরা বহুদূর পিছিয়ে এসেছি। তবে প্রবৃদ্ধি, উন্নয়ন এবং কঠোর পরিশ্রমের জন্য দেশে ভালো পরিবেশ রয়েছে।’

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, ‘সরকারের কাজের সমালোচনা করা হয়। কিন্তু ইতিবাচক কাজের প্রশংসা করা হয় না। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকীতে আমরা প্রাইভেট সেক্টরকে গুরুত্ব দিয়েছি। বিনিয়োগ বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছি। এবার অনেক নতুন দেশের কাছ থেকে বাজেট সাপোর্ট পেয়েছি।’ সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘সপ্তম পঞ্চবার্ষিকীতে যে সমস্যাগুলো ছিল, সেগুলো অষ্টম পঞ্চবার্ষিকীতেও আছে। এগুলো এখনো দূর করা হয়নি।’