আত্মঘাতী গোলে মানরক্ষা রিয়ালের

মিরর স্পোর্টস : স্প্যানিশ প্রিমেরা ডিভিশনে যেন জয়টাই ভুলে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেই কবে হুয়েস্কার বিপক্ষে জিতেছিল ৪-১ গোলে। এরপর থেকে জিনেদিন জিদানের শিষ্যদের হাতে জয়ই ধরা দিচ্ছে না। ভ্যালেন্সিয়ার কাছে ৪-১ গোলে হার দিয়ে শুরু, ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে ড্র করেছে তারা ১-১ গোলে। আলাভেসের কাছে পরাজয় ২-১ গোলে। সর্বশেস চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শাখতারের কাছেও হেরেছে রিয়াল, ২-০ গোলে।

একের পর এক পরাজয় আর পয়েন্ট হারানোয় যখন দিশেহারা লা লিগার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা, তখন তাদের একদণ্ড স্বস্তি দিল একটি আত্মঘাতী গোল। সেভিয়ার মাঠে গিয়ে এক আত্মঘাতী গোলে ১-০ ব্যবধানে অবশেষে জয়ের দেখা মিললো রিয়াল মাদ্রিদের।

এই এক জয়ে কোনোমতে পয়েন্ট তালিকায় তিন নম্বরে উঠে এলো জিদান অ্যান্ড কোম্পানি। ১১ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ২০। যদিও শীর্ষে থাকা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের চেয়ে ৬ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে রিয়াল। ১০ ম্যাচে অ্যাটলেটিকোর পয়েন্ট ২৬। ১১ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল সোসিয়েদাদ।

একের পর এক হারের কারণে খুবই চাপের মুখে ছিলেন কোচ জিনেদিন জিদান। এমনও গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল, মৌসুমের মাঝপথেই না আবার চাকরি হারিয়ে বসেন রিয়াল কোচ! অব্যাহত চাপের মুখে অবশেষে নিজেদের জয়ের ধারায় ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হলো রিয়াল।

ম্যাচ শুরুর এক মিনিটের মধ্যেই লিড নিয়ে নিতে পারতো রিয়াল। রদ্রিগোর কাছ থেকে বল পেয়ে গোলের দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। কিন্তু পোস্টে শট না নিয়ে তিনি সেটাকে পাঠিয়ে দিলেন পোস্টের ওপর দিয়ে।

৩৩ মিনিটে দারুণ একটি সুযোগ মিস করে সেভিয়া। জেসাস নাভাসের একটি ক্রস থেকে দারুণ এক হেড নেন সেভিয়া ডিফেন্ডার জুলেস কৌন্ডে। কিন্তু তিনি লক্ষ্যে রাখতে পারেননি বলটি। থিবাত কুর্তোসকেও আর পরীক্ষা দিতে হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ১০ মিনিট পর, ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি শট ধরেও নিজেদের জালে ঠেলে দেন সেভিয়া গোলরক্ষক বৌনো। ১-০ গোলের লিড নিয়ে নেয় রিয়াল। লা লিগার চলতি মৌসুমে কোনো গোলরক্ষক কর্তৃক আত্মঘাতী গোলের এটাই প্রথম দৃষ্টান্ত বৌনোর। শুধু তাই নয়, গত ২০-২১ বছরে সেভিয়ার হয়ে কোনো গোলরক্ষকের আত্মঘাতী গোলের রেকর্ড এবারই প্রথম।

যদিও ম্যাচের পর রিয়াল তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দাবি করেন, গোলটি তার নামেই দেয়া উচিত, বৌনোর নামে নয়। তিনি বলেন, ‘এটা অবশ্যই আমার গোল। কারণ, শটটি নিয়েছিলাম আমিই। আর আজকের এই জয়টি আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য সত্যিই দরকার ছিল।’