অখ্যাত ক্যাডিজের কাছে পরাজয়ের লজ্জা বার্সেলোনার

মিরর স্পোর্টস : স্পেনের বাইরে ক্যাডিজ ফুটবল ক্লাবের নাম শুনেছেন, এমন মানুষের সংখ্যা নেহায়েত কম। অখ্যাত একটি ক্লাবই বলা যায়। প্রথম বিভাগ থেকে আগের মৌসুমে উঠে এসেছে তারা প্রিমেরা ডিভিশনে। লা লিগায় এসেই একের পর এক বাজিমাত করছে ক্লাবটি। সর্বশেষ লিওনেল মেসিদের দল, স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনাকেই হারিয়ে দিলো তারা! বার্সার পরাজয়ের ব্যবধান ২-১ গোলে।

ক্যাডিজের মত দলের কাছে পরাজয়ের পরই বোঝা যাচ্ছে, বার্সার সমস্যা খুব ছোট-খাট নয়। দলটিতে সমস্যা জমতে জমতে এখন সেটা বিশাল এক পাহাড়ে পরিণত হয়েছে। যার প্রভাব পড়ছে মাঠের খেলায়। ওসাসুনার সঙ্গে ৪-০ গোলে জিতে আসার পর এবারের মৌসুমে প্রথমবারেরমত পয়েন্ট তালিকায় ১০-এর মধ্যে প্রবেশ করেছিল তারা।

এবার ক্যাডিজের কাছে পরাজয়ের ফলে অবস্থানটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়। যদিও তাদের অবস্থান বর্তমানে সাত নম্বরে। ১০ ম্যাচ শেষে জয় মাত্র ৪টিতে। ড্র ২টি এবং বাকি ৪টিতে পরাজয়। পয়েন্ট মাত্র ১৪। অথচ, বার্সাকে হারিয়ে ক্যাডিজ ১৮ পয়েন্ট নিয়ে এখন অবস্থান করছে ৫ নম্বরে।

চোটের কারণে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচ খেলতে পারেননি লিওনেল মেসি। যদিও সেই ম্যাচে মেসিকে ছাড়াই জিতেছিল বার্সা। তবে ক্যাডিজের বিপক্ষে রোনাল্ড কোম্যানের একাদশে ঠিকই ফিরেছিলেন তিনি। কিন্তু মেসির ফিরে আসাটা ক্যাডিজের মাঠে মোটেও বার্সাকে উদ্দীপ্ত করতে পারেনি।

বার্সা কোনো গোলই করতে পারেনি। পুরো ম্যাচে গোলের সংখ্যা ৩টি। বার্সার পক্ষে একমাত্র গোলটিও এসেছে ক্যাডিজের ফুটবলারের পা থেকে, আত্মঘাতি হিসেবে।

৮ম মিনিটেই বার্সেলোনাকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে দেন আলভারো জিমেনেজ। কর্নার কিক থেকে ভেসে আসা বল হাতের তালু দিয়ে ঠেলে দেন বার্সা গোলরক্ষক মার্ক অ্যান্ডার টার স্টেগান। শেষে সেই বলটি চলে যায় জিমেনেজের কাছে। আলতো টোকায় বার্সার জালে বলটি জড়িয়ে দেন তিনি।

এই গোলের পর কিছুটা তাতিয়ে তোলে বার্সাকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রথমার্ধে গোলের সুযোগই খুব একটা তৈরি করতে পারেনি তারা। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেশ কিছু পরিবর্তন আনেন কোচ কোম্যান। অস্কার মিঙ্গুয়েজের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় পেদ্রিকে। ফিলিপ কৌতিনহোর পরিবর্তে আনা হয় ওসমান ডেম্বেলেকে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই বল দখল, পজেশন – সব কিছুইতেই এগিয়ে থাকে বার্সা। প্রভাব বিস্তার করে খেলতে থাকে তারা। যে কারণে ঘণ্টা পেরুনোর আগেই সমতায় ফেরে বার্সা। যদিও সেটা আত্মঘাতি থেকে। জর্দি আলবার কাছ থেকে বল পেয়ে যান মেসি। তিনি শট নিলে পেদ্রো আলক্যালা ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই সেটা জড়িয়ে দেন।

কিন্তু আবারও লিড নিতে খুব বিলম্ব করেনি ক্যাডিজ। ম্যাচের ৬৩ মিনিটেই বল জড়িয়ে দেয় তারা বার্সার জালে। ক্লেমেন্ত লেংলেট এবং টার স্টেগানের ভুল বোঝাবুঝির কারণে গোল হজম করতে হয় বার্সাকে। এই দু’জনের ভুল বোঝাবুঝিতে বল পেয়ে যান আলভারো নেগরেদো। পুরোপুরি ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দিতে তার আর কোনো বেগই পেতে হয়নি।

শেষ পর্যন্ত বার্সা একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও আর পারেনি ক্যাডিজের জালে বল প্রবেশ করাতে। অবশেষে বার্সার বিপক্ষে ২-১ গোলের ব্যবধানে স্বপ্নের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ক্যাডিজ।