সিনেমার শ্যুটিংয়ের আগুনে পুড়লো রেলওয়ে অফিস

নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর সৈয়দপুরে সিনেমার শ্যুটিংয়ের সময় ব্যবহৃত আগুনে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী/ওয়ার্কস (আইডাব্লু) অফিসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই সময় গুরুত্বপূর্ণ ও মূল্যবান সরঞ্জাম এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় রেলওয়ের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন জিনিসপত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

নীলফামারী সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম জানান, সৈয়দপুর শহরের ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট, নীলফামারীর সদর ও উত্তরা ইপিজেড এর দুইটি ইউনিটসহ মোট তিনটি ইউনিট দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী শ্রী নারায়ণ চন্দ্র জানান, কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়কের (ডিএস) পাঠানো চিঠি পেয়ে শ্যুটিং দলকে অফিস চত্বরে চিত্রায়নের জন্য অবস্থানের সুযোগ দেই। তাদের শ্যুটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার (অ্যাম্বুলেন্স বা আগুন নির্বাপনের) কোনও ব্যবস্থা ছিল না। এই কারণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এবং এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) মো. জয়দুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের চিঠির প্রেক্ষিতে তাদের শ্যুটিংয়ের জন্য স্থান দেওয়া হয়েছিল। তাদের ব্যবহৃত আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করা হবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ‘দামাল’ নামের একটি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ডকুমেন্টরি ফিল্ম (সিনেমা) তৈরির জন্য চ্যানেল আইয়ের সহযোগিতায় ঢাকা থেকে পরিচালক রায়হান রাফির নেতৃত্বে একটি শ্যুটিং দল শহরের বিভিন্ন স্থানে চিত্রায়ন করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ ডিসেম্বর (শুক্রবার) সৈয়দপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ে ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলী/ওয়ার্কস অফিস চত্বরে শ্যুটিং করে। রাতে অবস্থান করে দলটি ভোরের দিকেও একটি চিত্রায়নের সময় আগুন জ্বালায়। ওই আগুন থেকেই অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হলে অফিস সংলগ্ন গোডাউনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে সেখানে থাকা রেলপথের স্লিপার, রেলওয়ে কোয়ার্টার ও বাংলোর অব্যবহৃত কাঠের তৈরি দরজা-জানালা, বিভিন্ন সময় রেলওয়ের জমি থেকে কেটে আনা গাছ পুড়ে যায়। এছাড়াও ব্রিটিশ আমল থেকে ব্যবহৃত আলোকদানীসহ (হারিকেন) ঐতিহ্যবাহী সরঞ্জাম শ্যুটিংয়ের সময় ব্যবহার করায় সেগুলো আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই ঘটনায় প্রযোজক মো. আবু সাইদ ইমনের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।