সবাই ‘নেগেটিভ সনদ’ নিয়ে আসছেন, তবে…

মিররর ডেস্ক : আন্তর্জাতিক রুটের কোনো যাত্রী যাত্রা শুরুর সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা আগে হাতে পাওয়া ‘করোনা নেগেটিভ’ সনদ ছাড়া বাংলাদেশে ঢুকতে পারবেন না, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট অর্থাৎ ৫ ডিসেম্বর থেকে এমন নির্দেশনা কার্যকর হয়েছে। এরপর শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পাঁচটি ফ্লাইটে ৬৯২ জন যাত্রী বিভিন্ন দেশ থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ৬৯২ জনের প্রায় সবাই যাত্রা শুরুর ৭২ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করিয়ে ‘করোনা নেগেটিভ’ সনদ নিয়েই বাংলাদেশে এসেছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা স্বল্পসংখ্যক যাত্রী (আনুমানিক ডজনখানেক) আরটি-পিসিআর ল্যাবরেটরির বদলে অ্যান্টিজেন পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে এসেছেন কিংবা সনদ না নিয়েই দেশে ফিরেছেন। সনদ যাচাই ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সার্টিফিকেট ছাড়া তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এয়ার অ্যারাবিয়ার দুটি ফ্লাইটে ২২৮ জন, সৌদি এয়ারলাইন্সে ১২১ জন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ১০৮ জন ও টার্কিশ এয়ারলাইন্সে ২৩৫ জন যাত্রী শাহজালালে আসেন।

বিমানবন্দরে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শাহরিয়ার সাজ্জাদ বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে এয়ারলাইন্সগুলো করোনা নেগেটিভ সনদ সঙ্গে রয়েছে কি-না তা নিশ্চিত হওয়ার পরই ফ্লাইটে উঠতে দেয়। ফলে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া সব যাত্রীই করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে এসেছেন।’

ওই কয়েকজন কেন করোনা নেগেটিভ সনদ ছাড়া এসেছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে অনেক ফ্লাইটই ৪ ডিসেম্বর রওনা হয়েছে। ফলে তাদের কয়েকজন ৪ ডিসেম্বর মনে করে সার্টিফিকেট আনেননি, তাদের শরীরে কোনো নমুনা বা উপসর্গও নেই। এ কারণে প্রথমবার কয়েকজনের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিভাগসহ অন্যরা কিছুটা শিথিল ছিলেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানবন্দরে কর্তব্যরত একটি সংস্থার কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনায় একটি ধারায় বলা রয়েছে যেসব দেশে আরটি-পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষার সুযোগ নেই বা হয় না সেক্ষেত্রে অ্যান্টিজেন বা অ্যান্টিবডি পরীক্ষার সনদ গ্রহণযোগ্য।’

এছাড়া যেসব প্রবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করতে যান তাদের কাছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর কার্ড থাকলে তারা করোনা সনদ না নিয়ে এলেও দেশে ঢুকতে পারবেন। এ নিয়মে দু-একজন ফিরেছেন বলে জানা গেছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি দেশেও আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এমতাবস্থায় বিদেশফেরতদের মাধ্যমে আবার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ৫ ডিসেম্বর থেকে সবগুলো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে করোনা নেগেটিভ সনদ পরীক্ষা করার পরেই ফ্লাইটে যাত্রী তুলছে।