মাস্কই রক্ষাকবচ

করোনার শুরু থেকেই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম দিকে প্রতিদিন এবং কয়েকমাস পরে সপ্তাহে অন্তত দুবার করে দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ জানিয়ে এসেছেন। তাঁকে সবসময়ই দেশবাসী দেখছে মাস্ক পরিহিত অবস্থায়। গত নয় মাসে করোনাকালে দেশের অপ্রাপ্তবয়স্ক বালক-বালিকারা পর্যন্ত জেনে গেছে যে, করোনা নামের মারাত্মক ছোঁয়াচে ভাইরাসটি প্রধানত নাক-মুখ দিয়েই মানুষের দেহে প্রবেশ করে। আর মানুষের প্রবণতাই হচ্ছে হাত দিয়ে ঘনঘন নাক-মুখ স্পর্শ করা। তাই হাতের মাধ্যমে অর্থাৎ হাতে লেগে থাকা ভাইরাস যদি নাকে-মুখে এসে লাগে তবে তা সংক্রমিত করতে পারে। সে কারণেই ঘনঘন সাবান দিয়ে অন্তত কুড়ি সেকেন্ড করে হাত ধোয়ার কথা বলা হয়েছে। সাবানে থাকা ক্ষারে করোনাভাইরাসটি আহত হয় এবং কুড়ি সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে ধোয়া হলে শেষ পর্যন্ত ভাইরাসটি টিকে থাকতে পারে না। মারা পড়ে। ফলে মানুষের স্বাস্থ্যও সুরক্ষা পায়। মাস্ক পরা থাকলে নাকে-মুখে হাত লাগলেও মাস্কের বাধায় তা দেহে প্রবেশ করতে পারে না। দুজন মানুষ কাছাকাছি অবস্থায় কথাবার্তা বললে উভয়ের মুখ থেকেই থুতুর সূক্ষ্ম জলীয়কণা বা ড্রপলেট বের হয়। এটি তিন ফুট থেকে ছয় ফুট দূরত্ব পর্যন্ত যেতে পারে। সে কারণেই বলা হয় অন্তত অপর ব্যক্তি হতে তিন ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে নিরাপত্তার স্বার্থে। আর দুজনই যদি মাস্ক পরিহিত থাকেন তবে একে অন্যের মুখনির্গত ড্রপলেটের সংস্পর্শ থেকে বাঁচাতে পারেন। তাই কারও যদি করোনা থেকেও থাকে তবু সে অন্যকে সংক্রমিত করতে পারবে না মাস্ক পরা থাকলে। তাহলে এটা নিশ্চয়ই স্পষ্ট যে, মাস্ক এই করোনাকালে কতটা অনিবার্য হয়ে উঠেছে। এক কথায় মাস্ক হলো রক্ষাকবচ। আমরা এটাও জানি শীতের মধ্যেই করোনার প্রকোপ বাড়ে। আমাদের দেশে প্রথম যখন করোনা ধরা পড়ে তখন শীত অনেকটাই বিদায় নিয়েছে। এখন ডিসেম্বরে এসে দেশে শীত পড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে করোনারও দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে এখনই কঠোর হওয়ার সময়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতা নিয়ে আরও কড়া দিকনির্দেশনা দিয়েছে। নতুন এই নির্দেশনায় কোভিড-১৯ সংক্রমণের বিস্তার ঘটে চলা এলাকাগুলোর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের প্রত্যেকেরই মাস্ক পরা এবং ভাল বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নেই এমন ঘরেও অবশ্যই মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, যেখানে মহামারীর বিস্তার ঘটছে সেখানে দোকান, কাজের জায়গায় বা স্কুলের মতো বদ্ধ কক্ষে, এমনকি শিশু-কিশোরদেরও সব সময় মাস্ক পরিয়ে রাখা উচিত।

দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষাপটে জনগণকে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সচেতন করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। লোকে যাতে মাস্ক পরিধান করে সেজন্য তারা সতর্ক ও সচেতন করে দিচ্ছে। এমনকি ২০০ থেকে ৫০০ টাকা জরিমানাও করা হচ্ছে মাস্ক না পরার কারণে। আমরা চারপাশেই দেখতে পাই এখনও অনেকে মাস্ক পরছেন না। আবার অনেকের দুই কানে মাস্কের ফিতা থাকলেও তার নাক-মুখ মাস্ক দিয়ে আবৃত হয়। মাস্ক ঝুলে আছে থুতনিতে। সেক্ষেত্রে মাস্ক পরা না পরা সমান হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই বিপজ্জনক প্রবণতা রোধ করার জন্য থুতনিতে মাস্ক ঝুলিয়ে রাখা ব্যক্তিদের দ্বিগুণ জরিমানার কথাও বলা হচ্ছে। এ সবকিছুই করা হচ্ছে মানুষকে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত রাখার জন্য। নিজের ভাল পাগলেও বোঝে। তাহলে সুস্থ মানুষ কেন বুঝবেন না?

আমরা আশা করব প্রত্যেকেই ঘরের বাইরে থাকার সময়টুকু যথাযথভাবে মাস্ক পরিধান করবেন।