সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার হুমকি ইরানের

মিরর ডেস্ক : সংযুক্ত আরব আমিরাতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরান। আবু ধাবির যুবরাজ ও আমিরাতের ডি ফ্যাক্টো শাসক মোহাম্মদ বিন জায়েদ (এমবিজেড)-এর সঙ্গে ‘সরাসরি’ যোগাযোগ করে এ ব্যাপারে নিজ দেশের অবস্থান জানিয়ে দিয়েছে তেহরান। গত সপ্তাহেই এমবিজেড-এর সঙ্গে ইরানি কর্তৃপক্ষের এ যোগাযোগ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই।

আমিরাতের উচ্চ পর্যায়ের একটি সূত্র মিডল ইস্ট আই-কে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করলে তার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে আমিরাতে হামলা চালাবে তেহরান।

দেশের পারমাণবিক কর্মসূচির স্থপতি মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে এমনিতেই উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ইরান। এর মধ্যেই ইরাক-সিরিয়া সীমান্তে বিমান হামলা চালিয়ে দেশটির একজন কমান্ডারকে হত্যা করা হয়।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের পর এবার মার্কিন হামলার আশঙ্কা করছে ইরান। দেশটির শঙ্কা, ২০ জানুয়ারি মেয়াদ শেষের আগেই ইরানে হামলা চালাতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্রের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, ‘ইরানের কাছ থেকে সরাসরি হুমকি পেয়েছেন এমবিজেড। এক্ষেত্রে কোনও প্রক্সি ব্যাবহার করা হয়নি।’

ইরান এমবিজেড-কে সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ‘ফখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের জন্য আমরা আপনাকেই দায়ী করবো।’

ইরান থেকে আমিরাতরে দূরত্ব মাত্র ৭০ কিলোমিটার। দীর্ঘদিনের অবস্থানের বদল ঘটিয়ে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে আমিরাত। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় তুরস্ক ও ইরানের মতো দেশগুলো। দেশের শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের জন্যও ইসরায়েলকে দায়ী করে তেহরান।

ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির পর আবু ধাবির হোটেলগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ইহুদি খাবার রাখার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলের নাম উল্লেখ না করেই আমিরাতে ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে বিদেশিদের শতভাগ মালিকানার বিধান করে কর্তৃপক্ষ। উদ্যোগ নেওয়া হয় অ্যালকোহল গ্রহণ ও অবিবাহিত যুগলদের একসঙ্গে বসবাসের মতো বিষয়গুলোকে আইনি বৈধতা দেওয়ার।

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ১৩টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের নতুন করে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় আমিরাতি কর্তৃপক্ষ। আমিরাতের যেন ইসরায়েলি নাগরিকরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তার ওপর জোর দেওয়া হয়। উদ্যোগ নেওয়া হয় সরাসরি বিমান চলাচলের। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে আমিরাতকেই বেছে নেওয়ার কথা জানায় ইরান।

ইরানের এই হুমকির বিষয়ে মিডল ইস্ট আই লন্ডনে নিযুক্ত আমিরাতি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তাদের কাছ থেকে কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের এই হুমকির খবরে উদ্বিগ্ন ইসরায়েলের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আমিরাতে তাদের নাগরিকরা প্রতিশোধের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।